Skip to main content

লীলা মজুমদারের মাকু উপন্যাসের তৃতীয় অধ্যায়টি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ,সপ্তম শ্রেণী।

      লীলা মজুমদারের 'মাকু' উপন্যাসের তৃতীয় অধ্যায়টি মূলত হোটেলওয়ালার অদ্ভুত স্বভাব, তার জন্মদিনের আয়োজন এবং সোনা-টিয়ার বনের জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর সেখানে আমরা দেখি-

    হোটেলওয়ালার বিচিত্র জন্মদিন পালন।তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই আমরা দেখি যে, হোটেলওয়ালার জন্মদিনের মহোৎসব। হোটেলওয়ালার দাবি অনুযায়ী, তার বয়স এগারো বছর পূর্ণ হয়ে বারো বছরে পা দিল। যদিও তার চেহারা দেখে সোনা ও টিয়ার মনে হয়েছে সে যথেষ্ট বৃদ্ধ, তবুও তার এই অদ্ভুত দাবিতে তারা অবাক হয়। আসলে হোটেলওয়ালা প্রতি বছরই তার বয়স এগারো বলে দাবি করে।তবে-

      জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়া আর পোলাওয়ের আয়োজন করা হয়। তবে এই রান্নার উপকরণগুলো ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। বনের লতাপাতা, ফলমূল আর জংলি গাছগাছড়া দিয়ে রান্না হচ্ছিল। আম্মা (সোনা-টিয়ার পরিচারিকা) এই রান্নার ধরন দেখে খুবই বিরক্ত হন।বিশেষ করে 'শুয়োরের হাড়ের ঝোল'এর কথা শুনে আম্মার গা ঘিনঘিন করে ওঠে।হোটেলওয়ালা অত্যন্ত দ দ দ করে কথা বলে (তোতলামি) এবং সে তার রান্নার প্রশংসা নিজেই করতে থাকে।

          তৃতীয়  অধ্যায়ে বনের এক রহস্যময় পরিবেশ ফুটে ওঠে। আম্মা বারবার সোনা ও টিয়াকে সাবধান করেন যেন তারা বনের বেশি গভীরে না যায়। আম্মার বিশ্বাস ছিল বনে ভূত-প্রেত আছে। অন্যদিকে, সোনা ও টিয়া বনের মধ্যে মাকুকে খুঁজে পাওয়ার এবং ঘড়িওয়ালার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে।যেখানে আমরা-

সং ও অন্যান্য চরিত্রের আনাগোনা দেখতে পাই।তৃতীয় অধ্যায়েই আমরা 'সং'-এর দেখা পাই। সং মূলত সার্কাস দলের একজন সদস্য, যে তার লটারি জেতার টিকিট হারিয়ে ফেলেছে এবং সারাক্ষণ তা খুঁজে বেড়ায়। হোটেলওয়ালার হোটেলের চারপাশের মানুষজন যে আসলে সাধারণ নয়, বরং কোনো এক বিশেষ পরিস্থিতির শিকার (যেমন সার্কাস দল), তার ইঙ্গিত এই অধ্যায় থেকেই পাওয়া শুরু হয়।

        সোনা ও টিয়া ছোট হলেও তারা তাদের বুদ্ধিমত্তায় বনের এই অদ্ভুত মানুষগুলোর সাথে বেশ মানিয়ে নেয়। তারা মাকুর সেই অদ্ভুত কলকব্জা আর ঘড়িওয়ালার পালানোর গল্পগুলো মেলাতে চেষ্টা করে। তারা বুঝতে পারে যে মাকু কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং এক অসাধারণ যন্ত্রমানুষ যে এখন বনের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

### **মূল কথা:**

তৃতীয় অধ্যায়টি গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখানে একদিকে যেমন **হোটেলওয়ালার মজাদার ও বিচিত্র চরিত্র** ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে বনের লুকানো রহস্য আর **সার্কাস দলের লোকেদের ছদ্মবেশে থাকার ইঙ্গিত** পাওয়া গেছে। মাকুকে খুঁজে বের করার এবং তাকে মানুষের মতো অনুভূতি দেওয়ার যে মূল লক্ষ্য, তার পটভূমি এই অধ্যায়েই দৃঢ় হয়।

 আলোচনা করো। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ,সপ্তম শ্রেণী।


মূলত হোটেলওয়ালার অদ্ভুত স্বভাব, তার জন্মদিনের আয়োজন এবং সোনা-টিয়ার বনের জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নিচে এই অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

## ১. হোটেলওয়ালার বিচিত্র জন্মদিন

তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই দেখা যায় হোটেলওয়ালার জন্মদিনের মহোৎসব। হোটেলওয়ালার দাবি অনুযায়ী, তার বয়স এগারো বছর পূর্ণ হয়ে বারো বছরে পা দিল। যদিও তার চেহারা দেখে সোনা ও টিয়ার মনে হয়েছে সে যথেষ্ট বৃদ্ধ, তবুও তার এই অদ্ভুত দাবিতে তারা অবাক হয়। আসলে হোটেলওয়ালা প্রতি বছরই তার বয়স এগারো বলে দাবি করে।

## ২. খাবারের আয়োজন ও আম্মার বিরক্তি

জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়া আর পোলাওয়ের আয়োজন করা হয়। তবে এই রান্নার উপকরণগুলো ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। বনের লতাপাতা, ফলমূল আর জংলি গাছগাছড়া দিয়ে রান্না হচ্ছিল।

 * আম্মা (সোনা-টিয়ার পরিচারিকা) এই রান্নার ধরন দেখে খুবই বিরক্ত হন।

 * বিশেষ করে **'শুয়োরের হাড়ের ঝোল'**-এর কথা শুনে আম্মার গা ঘিনঘিন করে ওঠে।

 * হোটেলওয়ালা অত্যন্ত দ দ দ করে কথা বলে (তোতলামি) এবং সে তার রান্নার প্রশংসা নিজেই করতে থাকে।

## ৩. বনের রহস্য ও ভয়

এই অধ্যায়ে বনের এক রহস্যময় পরিবেশ ফুটে ওঠে। আম্মা বারবার সোনা ও টিয়াকে সাবধান করেন যেন তারা বনের বেশি গভীরে না যায়। আম্মার বিশ্বাস ছিল বনে ভূত-প্রেত আছে। অন্যদিকে, সোনা ও টিয়া বনের মধ্যে মাকুকে খুঁজে পাওয়ার এবং ঘড়িওয়ালার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে।

## ৪. সং ও অন্যান্য চরিত্রের আনাগোনা

এই অধ্যায়েই আমরা 'সং'-এর দেখা পাই। সং মূলত সার্কাস দলের একজন সদস্য, যে তার লটারি জেতার টিকিট হারিয়ে ফেলেছে এবং সারাক্ষণ তা খুঁজে বেড়ায়। হোটেলওয়ালার হোটেলের চারপাশের মানুষজন যে আসলে সাধারণ নয়, বরং কোনো এক বিশেষ পরিস্থিতির শিকার (যেমন সার্কাস দল), তার ইঙ্গিত এই অধ্যায় থেকেই পাওয়া শুরু হয়।

## ৫. সোনা ও টিয়ার বুদ্ধিমত্তা

সোনা ও টিয়া ছোট হলেও তারা বনের এই অদ্ভুত মানুষগুলোর সাথে বেশ মানিয়ে নেয়। তারা মাকুর সেই অদ্ভুত কলকব্জা আর ঘড়িওয়ালার পালানোর গল্পগুলো মেলাতে চেষ্টা করে। তারা বুঝতে পারে যে মাকু কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং এক অসাধারণ যন্ত্রমানুষ যে এখন বনের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

### **মূল কথা:**

তৃতীয় অধ্যায়টি গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখানে একদিকে যেমন **হোটেলওয়ালার মজাদার ও বিচিত্র চরিত্র** ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে বনের লুকানো রহস্য আর **সার্কাস দলের লোকেদের ছদ্মবেশে থাকার ইঙ্গিত** পাওয়া গেছে। মাকুকে খুঁজে বের করার এবং তাকে মানুষের মতো অনুভূতি দেওয়ার যে মূল লক্ষ্য, তার পটভূমি এই অধ্যায়েই দৃঢ় হয়।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...