সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো **প্রবন্ধ**। সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তথ্য, যুক্তি এবং বুদ্ধিনির্ভর যে গদ্য রচনা লেখা হয়, তাকেই প্রবন্ধ বলা হয়।
নিচে প্রবন্ধের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:
### ১. সংজ্ঞা
'প্রবন্ধ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো— 'প্রকৃষ্ট রূপে বন্ধন'। অর্থাৎ, যেখানে বিষয়বস্তু ও ভাবকে একটি সুশৃঙ্খল ও আঁটসাঁট কাঠামোর মধ্যে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। ইংরেজিতে একে বলা হয় **Essay**।
### ২. মূল বৈশিষ্ট্য
একটি আদর্শ প্রবন্ধের কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকে:
* **যুক্তিনির্ভরতা:** প্রবন্ধ মূলত আবেগ বা কল্পনার চেয়ে যুক্তি ও তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করে।
* **সুশৃঙ্খল গঠন:** এর একটি নির্দিষ্ট শুরু (ভূমিকা), মূল অংশ এবং শেষ (উপসংহার) থাকে।
* **গদ্যের ব্যবহার:** এটি সর্বদা গদ্যে লিখিত হয়।
* **বস্তুনিষ্ঠতা:** লেখক কোনো বিষয়কে বিচার-বিশ্লেষণ করে তার একটি স্বচ্ছ ধারণা পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন।
### ৩. প্রবন্ধের প্রকারভেদ
উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রবন্ধকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* **তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ (Objective Essay):** যেখানে লেখকের ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে বিষয়ের সত্যতা এবং তথ্য বেশি প্রাধান্য পায়। যেমন— বিজ্ঞান বা ইতিহাস বিষয়ক প্রবন্ধ।
* **মন্ময় বা ব্যক্তিনিষ্ঠ প্রবন্ধ (Subjective Essay):** যেখানে লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি ও পাণ্ডিত্য প্রধান হয়ে ওঠে। একে অনেকে 'ললিত প্রবন্ধ' বা 'Personal Essay' বলেন।
**সহজ কথায়:** কোনো একটি বিশেষ ভাব বা তথ্যকে যখন সুসংগত ভাষায় এবং নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়, তখনই তাকে প্রবন্ধ বলে।
Comments
Post a Comment