মতি নন্দীর কোনি উপন্যাসের সপ্তম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও বিশ্লেষণ করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় সেমিস্টার।
সপ্তম অধ্যায়ের শুরুতে আমরা দেখতে পাই যে, মতি নন্দীর 'কোনি'উপন্যাসের সপ্তম অধ্যায়টি কোনির খেলোয়াড় জীবনের উত্তরণ এবং তার পারিবারিক সংকটের এক সন্ধিক্ষণ।যেখানে ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে এক কঠোর রুটিনের মধ্যে বেঁধে ফেলেছেন। দারিদ্র্য আর শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও ক্ষিতীশের লক্ষ্য স্থির। তিনি কোনিকে বোঝান যে তার আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো মানুষ নয়, বরং স্টপওয়াচের কাঁটা।আর সেখানে ক্ষিতীশ কোনিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-
"তোর আসল শত্রু হলো এই ঘড়িটা। ওটাকে হারাতে হবে।"
সাঁতারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার কোনির পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব ছিল। তাই ক্ষিতীশ নিজের স্বল্প সামর্থ্য থেকেই কোনির জন্য দুধ, ডিম ও কলার ব্যবস্থা করেন। এই অধ্যায়ে আমরা দেখি, ক্ষিতীশ কেবল একজন কোচ নন, বরং একজন অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন।আর সেখানে কোনির ডায়েট চার্ট বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ক্ষিতীশ বলেন-
"লোভ দেখিয়ে কোনো লাভ নেই কোনি, এটা তোর শরীরের জন্য দরকার। তবেই তুই জোরে সাঁতরাতে পারবি।"
কোনির বাসায় গিয়ে ক্ষিতীশ তাদের চরম দারিদ্র্যের রূপটি প্রত্যক্ষ করেন। তাদের নোনা ধরা দেয়াল, অন্ধকার ঘর আর একবেলা আধপেটা খেয়ে থাকার ছবিটি পাঠকদের ব্যথিত করে। এই দারিদ্রতাই কোনির সাফল্যের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।আর সেখানে খাবারের অভাব নিয়ে কোনির সহজ স্বীকারোক্তি-
"খাওয়ায় আমার কোনো লোভ নেই ক্ষিদ্দা, আমরা কোনোদিনই পেট ভরে খেতে পাই না ।"
তবে এই অধ্যায়ের শেষে কোনির জীবনে এক নিদারুণ ট্র্যাজেডি নেমে আসে। কোনির বড় ভাই কমল, যে ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা এবং কোনির সাঁতারের প্রধান উৎসাহদাতা, যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। কমলের মৃত্যু কোনির জীবনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে এবং তার সাঁতার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয।তবে-
কমলের মৃত্যুর পর ক্ষিতীশ বিচলিত হলেও ভেঙে পড়েননি। তিনি বুঝতে পারেন, এখন কোনিকে সাঁতার কাটতেই হবে-কেবল নিজের জন্য নয়, বরং তার মৃত দাদার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য।আর এখান থেকেই শুরু হয় এক নতুন জেদ।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, অভাব আর মৃত্যুও মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারে না। ক্ষিতীশ সিংহের গাইডেন্স এবং কোনির ভেতরের সুপ্ত জেদ-এই দুইয়ের মিলনে কোনির জীবনে এক নতুন জীবনযুদ্ধের সূচনা হয়।
Comments
Post a Comment