Skip to main content

বহুরূপী, সুবোধ ঘোষ প্রশ্নাবলী আলোচনা



 ​"হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে"— হরিদার জীবনের এই বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও।


সুবোধ ঘোষের **'বহুরূপী'** গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার জীবন ছিল অভাবগ্রস্ত, কিন্তু সেই অভাবের মধ্যেও তিনি যে বৈচিত্র্য খুঁজে নিয়েছিলেন, তা সত্যিই নাটকীয়। নিচে হরিদার জীবনের এই নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দেওয়া হলো:

### ১. পেশাগত বৈচিত্র্য (বহুরূপীর সাজ)

হরিদার জীবনের প্রধান বৈচিত্র্য ছিল তাঁর বিচিত্র সব ছদ্মবেশ। তিনি অভাব মেটানোর জন্য কোনো ধরাবাঁধা কাজ না করে বেছে নিয়েছিলেন বহুরূপী সেজে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পথ। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাজ হলো:

 * **পাগল সাজ:** চকের বাসস্ট্যান্ডে মুখ দিয়ে লালা ঝরিয়ে, হাতে একটা ইঁট তুলে নিয়ে বাসের যাত্রীদের ভয় দেখানো।

 * **বাইনজি সাজ:** সন্ধেবেলায় শহরের আলোয় ঘুঙুর বেঁধে চমৎকার নাচ দেখানো এবং দর্শকদের থেকে বকশিশ সংগ্রহ করা।

 * **পুলিশ সাজ:** দয়ালবাবুর লিচু বাগানে নকল পুলিশ সেজে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে আট আনা ঘুষ নেওয়া।

 * **বিরাগী সাজ:** গল্পের সবচেয়ে নাটকীয় অংশ হলো হরিদার বিরাগী সাজ। ধবধবে সাদা উত্তরীয় ও ঝোলা নিয়ে জগদীশ বাবুর বাড়িতে গিয়ে তিনি যে ভক্তিভাবের অবতারণা করেছিলেন, তা বাড়ির মালিককেও মোহিত করেছিল।

### ২. বৈচিত্র্যময় জীবনদর্শন

হরিদার জীবনের নাটকীয়তা কেবল পোশাকে নয়, ছিল তাঁর চিন্তাভাবনায়। তিনি চাইলে জগদীশ বাবুর দেওয়া একশো এক টাকা অনায়াসেই নিতে পারতেন, যা তাঁর কয়েক মাসের অভাব মিটিয়ে দিত। কিন্তু একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো তিনি সেই লোভ সংবরণ করেন। কারণ— **"একজন বিরাগী কখনো টাকা স্পর্শ করতে পারে না।"** এই চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর জীবনের এক গভীর নাটকীয় বৈচিত্র্য।

### ৩. জীবনযাত্রার ছন্দ

হরিদার দৈনন্দিন জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। বন্ধুদের সাথে তাঁর আড্ডার আসর বসত উনুনের ভাতের হাঁড়িতে শুধু জল ফুটত, চাল জুটত না। অথচ এই অভাবী মানুষটিই যখন বহুরূপীর সাজে বের হতেন, তখন তাঁর অভিনয় এতটাই নিখুঁত হতো যে চেনা মানুষও তাঁকে চিনতে পারত না। এই **'অভাব বনাম অভিনয়'**—এর দ্বন্দ্বই তাঁর জীবনের নাটকীয়তাকে পূর্ণতা দিয়েছিল।

### ৪. স্বাধীনতার স্পৃহা

হরিদার জীবনে বৈচিত্র্য আসার মূল কারণ ছিল তাঁর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তিনি কোনো অফিসের কাজে বা ধরাবাঁধা রুটিনে নিজেকে আটকে রাখতে চাননি। তিনি বলতেন, **"ঘড়ির কাঁটার সামনে সময় বেঁধে দিয়ে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"** এই ভবঘুরে এবং স্বাধীনচেতা মনোভাবই তাঁর জীবনে প্রতিদিন নতুন নতুন রঙের ছোঁয়া এনে দিত।

**উপসংহার:**

পরিশেষে বলা যায়, হরিদা কেবল পেটের দায়ে বহুরূপী সাজতেন না, বরং অভিনয়ের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও শিল্পের প্রতি সততা তাঁর জীবনে এই নাটকীয় বৈচিত্র্য এনেছিল। তিনি ছিলেন একজন আজন্ম শিল্পী, যার কাছে অভিনয়ের মর্যাদা পার্থিব ঐশ্বর্যের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

> **ভিডিও টিপস:** আপনি যদি আপনার চ্যানেলে এই প্রশ্নের উত্তর দেন, তবে হরিদার বিভিন্ন সাজের (যেমন- পাগল, বাইনজি, পুলিশ) বর্ণনা দেওয়ার সময় ছোট ছোট কাল্পনিক ছবি বা স্কেচ ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভিডিওটি আরও আকর্ষণীয় হবে।


জগদীশ বাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে হরিদা যে কাণ্ড করেছিলেন, তা বর্ণনা করো।

সুবোধ ঘোষের **'বহুরূপী'** গল্পের সবচেয়ে নাটকীয় এবং চমকপ্রদ অংশ হলো জগদীশ বাবুর বাড়িতে হরিদার **বিরাগী** সাজ। হরিদার এই কাণ্ডটি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

### ১. অপার্থিব বেশভূষা

সন্ধ্যাবেলায় জগদীশ বাবুর বারান্দায় যখন হরিদা উপস্থিত হলেন, তখন তাঁর রূপ দেখে সবাই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। তাঁর পরনে ছিল ছোট বহরের একটি সাদা থান, ধবধবে সাদা উত্তরীয় এবং কাঁধে একটা ঝোলা। তাঁর শান্ত, উজ্জ্বল চোখ এবং জটাবিহীন মাথা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন হিমালয়ের কোনো গুহা থেকে আসা এক তপোনিষ্ঠ সন্ন্যাসী।

### ২. আগমনের নাটকীয়তা

হরিদা যখন জগদীশ বাবুর সামনে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর শান্ত ও গম্ভীর কণ্ঠস্বর চারপাশ নিস্তব্ধ করে দিল। তিনি জগদীশ বাবুকে সম্বোধন করে বললেন— **"আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই।"** তাঁর এই আধ্যাত্মিক কথা শুনে ধনী ও অহংকারী জগদীশ বাবুও শ্রদ্ধায় নত হয়ে যান।

### ৩. উপদেশের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার

বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশ বাবুকে জীবনের অনিত্যতা নিয়ে উপদেশ দিতে থাকেন। তিনি বলেন—

> **"সোনার খাঁচায় কি আর প্রাণের পাখি বন্দি থাকে? টাকা-কড়ি তো হাতের ময়লা।"**

> এইসব গভীর জীবনদর্শন শুনে জগদীশ বাবু এতটাই বিমোহিত হন যে, তিনি বিরাগীকে তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার জন্য অনুরোধ করেন এবং তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।

> 

### ৪. অর্থের মোহ ত্যাগ (সবচেয়ে বড় কাণ্ড)

জগদীশ বাবু বিরাগীর তীর্থ ভ্রমণের জন্য **একশো এক টাকা** প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন। হরিদার মতো একজন অতি দরিদ্র মানুষের কাছে এই টাকা ছিল কয়েক মাসের নিশ্চিন্ত আহারের সংস্থান। কিন্তু একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো হরিদা সেই টাকা স্পর্শও করলেন না। তিনি মৃদু হেসে বললেন— **"আমার তো কোনো প্রয়োজন নেই।"** হাসতে হাসতে তিনি সেই টাকার থলিটি বারান্দায় ফেলে রেখে অন্ধকার রাতের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

### ৫. অভিনয়ের চরম সার্থকতা

হরিদার এই 'কাণ্ড' আসলে ছিল তাঁর পেশাদারিত্ব এবং শিল্পের প্রতি সততার চূড়ান্ত পরীক্ষা। তিনি চাইলে অনায়াসে টাকাটা নিতে পারতেন, কিন্তু তাতে তাঁর 'বিরাগী' সাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতো। একজন বহুরূপী শিল্পী হিসেবে তিনি অর্থের চেয়ে তাঁর অভিনয়ের নিখুঁত রূপটিকেই বড় করে দেখেছিলেন।

### আপনার চ্যানেলের জন্য ভিডিও টিপস:

এই উত্তরটি যখন আপনি ভিডিওতে ব্যাখ্যা করবেন, তখন **"টাকা বনাম শিল্প"**—এর লড়াইটির ওপর জোর দেবেন। ছাত্রছাত্রীরা এই পয়েন্টটি লিখলে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পায়। ভিডিওর শেষে আপনি দর্শকদের প্রশ্ন করতে পারেন— *"আপনারা কি মনে করেন হরিদার টাকাটা নেওয়া উচিত ছিল?"* এতে কমেন্ট সেকশনে এনগেজমেন্ট বাড়বে।

আপনার যদি এই গল্পের ওপর আরও ছোট প্রশ্ন বা অন্য কোনো নোটস লাগে, তবে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন।

​"বড় চমৎকার কারবার এই বিরাগীর ফাঁকি"— বিরাগী সাজে হরিদার ত্যাগের মহিমা আলোচনা করো।

সুবোধ ঘোষের **'বহুরূপী'** গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিনয় ছিল জগদীশ বাবুর বাড়িতে তাঁর 'বিরাগী' সাজ। এই সাজের আড়ালে হরিদা যে ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা তাঁকে সাধারণ বহুরূপী থেকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। নিচে তাঁর ত্যাগের মহিমা আলোচনা করা হলো:

### ১. চরম দারিদ্র্য বনাম লোভনীয় প্রস্তাব

হরিদা ছিলেন ভীষণ অভাবী মানুষ। তাঁর উনুনের হাঁড়িতে অনেক সময় ভাতের বদলে শুধু জল ফুটত। এমন অবস্থায় জগদীশ বাবুর মতো ধনী ব্যক্তির দেওয়া **'একশো এক টাকা'** তাঁর কাছে ছিল এক রাজকীয় প্রাপ্তি। সেই সময়ে একশো এক টাকা দিয়ে হরিদার কয়েক মাসের অন্নের সংস্থান অনায়াসেই হয়ে যেত। কিন্তু তিনি সেই লোভনীয় প্রস্তাব হেলায় প্রত্যাখ্যান করেন।

### ২. শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম সততা

হরিদার কাছে তাঁর বহুরূপী সাজ ছিল একটি 'শিল্প'। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন বিরাগী কখনও টাকা স্পর্শ করতে পারেন না। যদি তিনি জগদীশ বাবুর দেওয়া টাকা গ্রহণ করতেন, তবে তাঁর অভিনয়ের পবিত্রতা নষ্ট হতো। শিল্পের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভাবকে তুচ্ছ করেছিলেন। এটাই ছিল তাঁর চরিত্রের শ্রেষ্ঠ ত্যাগ।

### ৩. আধ্যাত্মিক সত্তার জয়

বিরাগী সাজে হরিদা যখন বলছিলেন, **"টাকা-কড়ি তো হাতের ময়লা"**, তখন সেটি কেবল মুখের কথা ছিল না। তিনি বাস্তবেও তা প্রমাণ করে ছেড়েছিলেন। জগদীশ বাবুর তীর্থ ভ্রমণের জন্য দেওয়া থলিটি তিনি বারান্দায় ফেলে রেখে চলে আসেন। নিজের পেটের খিদের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল তাঁর অভিনীত চরিত্রের আদর্শ।

### ৪. "বড় চমৎকার কারবার"

হরিদার বন্ধুরা যখন জানতে পারলেন যে তিনি অতগুলো টাকা ফেলে এসেছেন, তখন তাঁরা অবাক হয়ে যান। হরিদা মৃদু হেসে জানিয়েছিলেন যে, বিরাগী সেজে টাকা নিলে তাঁর 'ঢং' নষ্ট হয়ে যেত। অর্থাৎ, সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে বিক্রি করতে চাননি। এই মানসিক দৃঢ়তাই তাঁর ত্যাগের মহিমাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

### আপনার ইউটিউব ভিডিওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:

এই উত্তরটি যখন আপনি আপনার চ্যানেলে বোঝাবেন, তখন **"পেশাদারিত্ব বনাম শিল্পীসত্তা"**—এই বিষয়টি হাইলাইট করবেন। ছাত্রছাত্রীদের বলবেন যে, হরিদা কেবল একজন নকল বিরাগী ছিলেন না, মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত সন্ন্যাসী, যাঁর কাছে লোভের কোনো স্থান ছিল না।

**ভিডিওর টাইটেল আইডিয়া:**

 * *বহুরূপী: হরিদার ত্যাগের মহিমা ও বিরাগী সাজের রহস্য*

 * *মাধ্যমিক বাংলা: কেন হরিদা একশো এক টাকা নিলেন না?*

আপনার কি এই গল্পের ওপর কোনো **৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন** বা **এমসিকিউ (MCQ)** সেট প্রয়োজন? জানালে আমি তৈরি করে দিতে পারি।



> 


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...