Skip to main content

সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক' কবিতার মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো।

সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক' কবিতার মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সপ্তম, শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা।

      সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক’ কবিতাটি মূলত একটি কৌতূহলোদ্দীপক এবং হাস্যরসাত্মক কবিতা।​‘নোটবুক’ কবিতার প্রধান চরিত্র হলো একটি শিশু (বা একজন কৌতূহলী মানুষ), যার হাতে সবসময় একটি নোটবুক থাকে। সে তার চারপাশের জগতের তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড কৌতূহলী। যখনই সে নতুন কোনো তথ্য পায় বা তার মনে কোনো অদ্ভুত প্রশ্ন জাগে, তখনই সে সেটি তার নোটবুকে লিখে রাখে।

​        কবিতাটির মূল সুর হলো অহেতুক কৌতূহল এবং অসংলগ্ন তথ্যের সংকলন। লেখক এখানে দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় আমরা গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই, অথচ সেগুলোর বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিনির্ভর কারণ না খুঁজে কেবল সেগুলোকে সংগ্রহ করতেই ব্যস্ত থাকি। আর সেখানে আমরা দেখি-

​        তুচ্ছ বিষয়ে মনোযোগ হিসেবে নোটবুকের মালিক ফড়িংয়ের ক’টি পা কিংবা আরশোলা কী খায়, তা জানার জন্য ছটফট করে। তার কাছে এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান।আবার-

​      বিচিত্র সব প্রশ্নে দেখা যায় কামড়ালে কেন আঙুল টাটায় কিংবা জোয়ান খেলে কেন তেজ হয়-এমন সব অদ্ভুত প্রশ্ন তার মাথায় ঘোরে। সে তার মেজদাকে খুঁচিয়ে এসবের উত্তর বের করার চেষ্টা করে।

​তথ্যের অসংলগ্নতা: নোটবুকে সে কেবল প্রয়োজনীয় কথা লেখে না, বরং ‘পিলে কেন চমকায়’ বা ‘নস্যি দিয়ে কেন হাঁচি হয়’—এই জাতীয় সব এলোমেলো বিষয় লিখে রাখে।

        পরিশেষে বলা যায়, ‘নোটবুক’ কবিতাটি সুকুমার রায়ের অনন্য সৃষ্টির একটি উদাহরণ। এখানে ছোটদের অদম্য কৌতূহলকে যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি বড়দের তথাকথিত 'পাণ্ডিত্য' বা অদ্ভুত সব যুক্তিকেও মৃদু ব্যঙ্গের ছোঁয়ায় পরিবেশন করা হয়েছে। এটি একটি অ্যাবসার্ড (Absurd) বা খাপছাড়া ধরণের মজার কবিতা।

​কবিতার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি

​পরীক্ষায় উত্তরের মান বাড়াতে নিচের উদ্ধৃতিগুলো ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি:

​১. নোটবুক ব্যবহারের নেশা:

"এই দেখো পেন্সিল, এই দেখো নোটবুক—

প’ড়ে শুনি শোনো তবে, যদি নেই কোটবুক!"

​২. অদ্ভুত সব কৌতূহল:

"ফড়িংয়ের ক’টা পা? আরশোলার কী-বা খায়?

আঙুলেতে আঠা দিলে কেন সেটা চটচটায়?"

​৩. মেজদাকে প্রশ্ন করার জেদ:

"বলবে কি মেজদা? খুঁচিয়ে তো জানবই—

কেন পিলে চমকায়? কেন হয় ধানবই?"

​উপসংহার

​পরিশেষে বলা যায়, ‘নোটবুক’ কবিতাটি সুকুমার রায়ের অনন্য সৃষ্টির একটি উদাহরণ। এখানে ছোটদের অদম্য কৌতূহলকে যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি বড়দের তথাকথিত 'পাণ্ডিত্য' বা অদ্ভুত সব যুক্তিকেও মৃদু ব্যঙ্গের ছোঁয়ায় পরিবেশন করা হয়েছে। এটি একটি অ্যাবসার্ড (Absurd) বা খাপছাড়া ধরণের মজার কবিতা।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...