Skip to main content

সামাজিক গোষ্ঠী কাকে বলে? সামাজিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো।

সামাজিক গোষ্ঠী কাকে বলে? সামাজিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার দর্শন মাইনর। ( প্রথম ইউনিট )।

​      •সামাজিক গোষ্ঠীর সংজ্ঞাঃসাধারণভাবে যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সাধারণ কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একে অপরের সংস্পর্শে আসে এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সংহতি গড়ে তোলে, তখন তাকে সামাজিক গোষ্ঠী বলে।সমাজতাত্ত্বিক ম্যাকাইভার ও পেজ-এর মতানুসারে বলা যায়-

  "সামাজিক গোষ্ঠী বলতে এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা একে অপরের সাথে সামাজিক সম্পর্কের সূত্রে আবদ্ধ।" 

          আবার অগবার্ন ও নিমকফ মনে করেন- "যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে মিলিত হয় এবং একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখনই একটি সামাজিক গোষ্ঠী গঠিত হয়।"

সামাজিক গোষ্ঠীর দশটি প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি (Ten Main Characteristics of Social Group) আলোচনা।

​      ১)দুই বা ততোধিক ব্যক্তিঃএকটি সামাজিক গোষ্ঠী গঠনের প্রাথমিক শর্ত হলো একের অধিক ব্যক্তির উপস্থিতি। একক কোনো ব্যক্তি নিয়ে গোষ্ঠী গঠিত হতে পারে না। সদস্যদের সংখ্যা দুই থেকে শুরু করে কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

​    ২) পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াঃ কেবলমাত্র এক জায়গায় কয়েকজন মানুষ জড়ো হলেই তাকে গোষ্ঠী বলা যায় না (যেমন স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষা করা যাত্রীরা গোষ্ঠী নয়)। সদস্যদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থাকা আবশ্যিক। একজনের আচরণ অন্যজনকে প্রভাবিত করে।

​   ৩)সাধারণ লক্ষ্য ও আদর্শঃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে এক বা একাধিক সাধারণ উদ্দেশ্য থাকে। এই নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের তাগিদেই তারা একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ হয়। লক্ষ্যহীন জনসমষ্টিকে সামাজিক গোষ্ঠী বলা যায় না।

​   ৪)আমরা-বোধঃএটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের একটি একক সত্তা হিসেবে মনে করে। তাদের মধ্যে গভীর একাত্মতা এবং সহমর্মিতা কাজ করে, যাকে সমাজতত্ত্বের ভাষায় 'আমরা-বোধ' বলা হয়।

​   ৫)নির্দিষ্ট নিয়ম ও আদর্শঃপ্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব কিছু আচার-আচরণ, রীতি-নীতি বা নৈতিক আদর্শ থাকে। এই নিয়মগুলো সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গোষ্ঠীর মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

​   ৬)গোষ্ঠী চেতনাঃসদস্যরা সচেতনভাবে অনুভব করে যে তারা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অংশ। এই সচেতনতা তাদের মধ্যে এক ধরণের সংহতি বা ঐক্য তৈরি করে, যা বাইরের ব্যক্তিদের থেকে তাদের আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।

​   ৭)অপেক্ষাকৃত স্থায়িত্বঃ ভিড় বা শ্রোতামণ্ডলীর মতো সামাজিক গোষ্ঠী ক্ষণস্থায়ী নয়। এটি একটি স্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা। যতক্ষণ পর্যন্ত সদস্যদের সাধারণ উদ্দেশ্য বজায় থাকে, ততক্ষণ গোষ্ঠীটি টিকে থাকে।

​   ৮)শ্রম বিভাজন ও ভূমিকার বন্টনঃএকটি গোষ্ঠীর মধ্যে সদস্যদের কাজ বা ভূমিকা আলাদা আলাদা হতে পারে। যেমন—পরিবারে মা, বাবা ও সন্তানের ভূমিকা ভিন্ন। এই কার্যের বন্টন গোষ্ঠীর কাজকে সহজতর করে তোলে।

​    ৯) সদস্যপদের ঐচ্ছিকতা ও আবশ্যিকতাঃকিছু গোষ্ঠীর সদস্যপদ আবশ্যিক (যেমন— পরিবার বা রাষ্ট্র), আবার কিছু গোষ্ঠীর সদস্যপদ ঐচ্ছিক বা নিজের ইচ্ছাধীন (যেমন— কোনো ক্লাব বা রাজনৈতিক দল)। ব্যক্তি তার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্য হতে পারে।

​    ১০) কাঠামোবদ্ধ রূপঃ সামাজিক গোষ্ঠী একটি অসংগঠিত জনসমষ্টি নয়। এর একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকে যেখানে সদস্যদের মধ্যে উচ্চ-নিচ ক্রমবিন্যাস বা মর্যাদার পার্থক্য থাকতে পারে (যেমন— সভাপতি, সম্পাদক ও সাধারণ সদস্য)।

  •সামাজিক গোষ্ঠীর গুরুত্ব (Importance of Social Group)

​      মানুষের জীবনে এবং সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক গোষ্ঠীর ভূমিকা অপরিসীম।আর সেখানে মানুষের জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তিতে সামাজিক গোষ্ঠীর যে গুরুত্ব আমরা দেখতে পাই সেগুলি হলো-

​      •ব্যক্তিত্বের বিকাশঃ মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটে গোষ্ঠীর মাধ্যমে। শৈশবে পরিবার (প্রাথমিক গোষ্ঠী) থেকেই শিশু সামাজিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ লাভ করে।

​     •সামাজিকীকরণঃ সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি এবং ভাষা মানুষ গোষ্ঠী থেকেই শেখে।

​     •নিরাপত্তা প্রদানঃগোষ্ঠী তার সদস্যদের মানসিক, সামাজিক এবং অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করে। বিপদের সময় গোষ্ঠী সদস্যদের পাশে দাঁড়ায়।

​    •চাহিদা পূরণঃ মানুষের জৈবিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদাগুলি একা পূরণ করা সম্ভব নয়। সামাজিক গোষ্ঠী এই চাহিদাগুলি পূরণে সহায়তা করে।

​   •সামাজিক নিয়ন্ত্রণঃগোষ্ঠী তার নিয়ম ও আদর্শের মাধ্যমে সদস্যদের বিপথে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

​    • সহযোগিতা ও সহমর্মিতাঃগোষ্ঠীর মধ্যে বসবাসের ফলে মানুষের মধ্যে পরার্থপরতা, ত্যাগ, সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার মতো মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়।.?

         উপরোক্ত আলোচনা ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, সামাজিক গোষ্ঠী হলো সমাজ কাঠামোর মূল ভিত্তি। গোষ্ঠী ছাড়া মানুষের সামাজিক অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। এটি ব্যক্তিকে যেমন নির্দিষ্ট পরিচয় দেয়, তেমনই সমাজকে সংহতি ও স্থায়িত্ব প্রদান করে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KABITA SUNDARBON YouTube channel SAMARESH sir.




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল                •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত ' সারদা মঙ্গল' কাব্যকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক গীতিকাব্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে উনিশ শতকে যখন বাংলা সাহিত্য মহাকাব্য ও আখ্যায়িকা কাব্যের ধারা থেকে সরে নতুন দিকে মোড় নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যটি গীতিকাব্যের আঙিনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। আর সে কারণেই হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্যকে ' ভোরের পাখি ' বলে অভিহিত করেছিলেন। যেখানে সারদা মঙ্গল গীতিকাব্যটি বাংলা সাহিত্যের এই নতুন ধারার শুভ সূচনা করেছিল। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা সারদা মঙ্গল কে গীতিকাব্য বলছি তার কারন-              • গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্যের নিরখে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির কাব্য। যে কাব্যটিতে কোনো নির্দিষ্ট গল্প বা কাহিনি নেই। তবে সেখানে আছে-কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী নিজে দেবী সারদার (জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী) প্রতি তাঁর ভক্তি ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। যে উক্তি ও ভালোবাসা ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...