Skip to main content

ভারতীয় সংবিধানে "ধর্মনিরপেক্ষতা" বলতে কি বোঝায়?

ভারতীয় সংবিধানে "ধর্মনিরপেক্ষতা" বলতে কি বোঝায়? 

আমরা জানি যে,ভারতীয় সংবিধানের ৪২ তম সংশোধনীর ১৯৭৬ সালে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' শব্দটি চালু করা হয়েছিল। আর সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে বলা হয়- ধর্ম থেকে সরকারকে আলাদা করা, যার অর্থ দাঁড়ায় ভারত সরকার কোন নির্দিষ্ট ধর্মকে অনুসরণ বা পক্ষপাতী করবে না, বরং প্রতিটি ধর্মকে সমানভাবে সমর্থন করবে বা নিরপেক্ষ থাকবে।তবে-

         ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতাবর্গ ভারতবর্ষকে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত না করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তাই ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম রূপকার অনন্তশায়ানাম আয়েঙ্গার বলেন-

     "আমরা ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে 

      পরিণত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ"( "we are 

       pledged to make the state a secular 

       one.")

ভারতীয় সংবিধানের ২৫-২৮ নম্বর ধারাতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার সম্বন্ধে যে বক্তব্য সংযোজিত করা হয়েছে তার মাধ্যমেই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর সেখানে ২৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তির বিবেকের স্বাধীনতা এবং ধর্ম গ্রহণ, ধর্ম পালন ও ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা আছে।তবে এই অধিকারটি অবাধ বা অনিয়ন্ত্রিত নয়। আবার-

        প্রত্যেক ধর্মসম্প্রদায় ধর্ম ও দানের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার, নিজ নিজ ধর্ম বিষয়ক কার্যাবলী পরিচালনা করার অধিকার আছে। তবে এই অধিকারগুলি কখনোই নিয়ন্ত্রণহীন নয়। যে কোন ধর্ম বা ধর্মসম্প্রদের উন্নতি অথবা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন প্রকার কর প্রদান করতে বাধ্য করা যাবে না। আবার সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থ দ্বারা পরিচালিত কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না এবং ধর্মমূলক উপাসনায় যোগদান করতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। অর্থাৎ-

          রাষ্ট্র ধর্মের বিষয়ে নিরপেক্ষ আচরণ করবে। আসলে ধর্ম হলো মানুষের অন্তরের বিষয়, নিজস্ব বিবেক, বিশ্বাস অনুযায়ী সে ধর্মাচরণ করবে। রাষ্ট্র এখানে কোন হস্তক্ষেপ করবে না অর্থাৎ নিরপেক্ষ থাকবে। তবে-

         ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটি আলাদা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর সেখানে বলা হয়েছে- ধর্মনিরপেক্ষ কথার অর্থ হল, কোন বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্র সাহায্য করবে না। আসলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হল এমন এক রাষ্ট্র, যা ব্যক্তি বা ধর্মীয় মতামত নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ধর্মীয় স্বাধীনতা মেনে নেবে। তাই প্রখ্যাত সংবিধান বিশারদ দুর্গাদাস বসু বলেন-

        "ভারতের সাংবিধানিক ব্যবস্থাগুলি একযোগে ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি মাত্রায় ধর্মনিরপেক্ষ করে তুলেছে।"


ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের

     "SHESHER KOBITA SUNDARBAN" YouTube Channel এ।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...