Skip to main content

ভারতীয় সংবিধানে লিপিবদ্ধ নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যগুলি লেখো।

ভারতীয় সংবিধানে লিপিবদ্ধ নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যগুলি লেখো।

ভূমিকাঃ আমরা জানি যে ভারতের মূল সংবিধানে নাগরিকদের সচেতন করার অভিপ্রায়ে মৌলিক অধিকার গুলি উল্লেখ ছিল না।কিন্তু ১৯৭৬ সালে ৪২ তম সংবিধান সংশোধনের মধ্যে দিয়ে সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায় ৫১/১ ধারায় নাগরিকদের দশটি মৌলিক কর্তব্য সংযোজন করা হয়। অতঃপর ২০০২ সালে আরোও একটি মৌলিক অধিকার ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের জন্য সংযোজিত করা হয়। অর্থাৎ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সংবিধানে মোট ১১টি মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।আর সেই মৌলিক কর্তব্যগুলি হলো-

১) ভারতীয় সংবিধানকে মান্য করা, ভারতের জাতীয় পতাকাকে ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

২) স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শগুলি সযত্নে সংরক্ষণ ও অনুসরণ করা।

৩) ভারতের সার্বভৌমত্ব ঐক্য ও সংহতিকে সমর্থন ও সংরক্ষণ করা।

৪) দেশ রক্ষা ও জাতির সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করা।

৫) ভারতীয় জনগণের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশ সাধন করা।

৬) ভারতের মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমর্থন ও সংরক্ষণ করা।

৭) বনভূমি, হ্রদ,নদনদী প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীবন্ত প্রাণীদের প্রতি মমত্ত্ববোধ দেখানো।

৮) বৈজ্ঞানিক মানসিকতার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করা।

৯) জাতীয় সম্পত্তির রক্ষা ও হিংসা বর্জন করা।

১০) ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সকল কাজে চরম উৎকর্ষের জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

১১)  ৬ থেকে ১৪ বছর বয়স্ক শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা ।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, সংবিধানের মৌলিক কর্তব্যগুলি উল্লেখ করা হলেও এই কর্তব্য গুলি ভঙ্গ করা হলে তার জন্য কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্ৰহণের কথা ভারতীয় সংবিধানে নেই। তবে বেশ কতকগুলি কর্তব্য ভারতীয় সংবিধান অস্পষ্ট। আর এই অস্পষ্টতার কারণে সেই কর্তব্য গুলি সাধারণ মানুষের বিচার বিবেচনার বাইরে অবস্থান করে অর্থাৎ সে সম্পর্কে সাধারণ নাগরিক কোন ওয়াকিবহল নয়।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...