তুমি বৃক্ষ আদি প্রাণ"-(4th Sem)এই পঙ্ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার? বৃক্ষকে যুগ যুগান্তরের প্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, তা আলোচনা করো।
"তুমি বৃক্ষ আদি প্রাণ"- এই পঙ্ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার? বৃক্ষকে যুগ যুগান্তরের প্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।
এই উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনবাণী' কাব্যগ্রন্থের 'বৃক্ষবন্দনা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আর সেখানে কবি বলেছেন-
বৃক্ষ আমাদের আদি প্রাণ। কারণ বৃক্ষ আমাদের প্রাণবাযয়ু প্রদান করে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই এই ধরাতলে এখনোও প্রাণের স্পন্দন দেখা যায়। পৃথিবী সৃষ্টির কোটি কোটি বছর আগে এই বৃক্ষ প্রথম জন্মলাভ করে পৃথিবীর বুকে।আর সেখানে-
•অন্ধ ভূমিগর্ভ থেকে বৃক্ষই একদিন শুনেছিল সূর্যের আহ্বান। আর সেদিন তার প্রথম প্রাণের জাগরণ ঘটে।সেই জাগরণ হল বৃক্ষই আদিপ্রাণ। সেদিন সে উন্নত শিরে উচ্চারণ করল আলোকের প্রথম বন্দনা। পাষাণের বক্ষের ওপর তার জন্ম ঘটে।আর জন্মের পর নিজের বেদনাময় নিষ্ঠুর জীবনে নিয়ে এলো প্রাণের স্পন্দন। আর সেই স্পন্দনে বৃক্ষকে যুগ যুগান্তরের প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।কারণ হিসেবে আমরা দেখি যে, ইক্ষই আমাদের যুগ যুগান্তরের প্রতিনিধি। আর আখ্যায়িত সেই পঙ্ক্তিটির মধ্যে আছে-
•প্রাচীনতা ও স্থায়িত্বের বিকাশঃ আমরা জানি যে,বৃক্ষ পৃথিবীর বুকে মানুষের আগমনের বহু পূর্ব থেকেই বিদ্যমান। সুদীর্ঘকাল ধরে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে তারা আবহমানতার প্রতীক। তারা যুগ যুগ ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এবং মানব সভ্যতার উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করে আসছে। একটি বৃক্ষ শত শত বছর ধরে টিকে থাকতে পারে, যা মানুষের জীবনকালের তুলনায় অনেক দীর্ঘ। এই দীর্ঘায়ু তাদেরকে অতীতের নীরব সাক্ষী করে তোলে। যেখানে-
•ধারাবাহিকতা ও পরম্পরাঃআমরা জানি যে,একটি বৃক্ষ তার বীজ থেকে জন্ম নেয় এবং বংশ পরম্পরায় নতুন বৃক্ষের জন্ম দেয়। এই প্রক্রিয়া প্রকৃতির অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করে। তারা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রাণের স্পন্দন বয়ে নিয়ে যায়, যা মানব সভ্যতার ধারাবাহিকতারও প্রতীক।
•সভ্যতার নিত্য সঙ্গীঃ মানব সভ্যতা বিকাশের প্রতিটি স্তরে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ বৃক্ষকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ এবং জ্বালানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে। বৃক্ষ ছাড়া মানব সভ্যতার অস্তিত্ব কল্পনা করা কঠিন। তাই বৃক্ষকে যুগ যুগান্তরের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করার অর্থ হলো, তারা মানুষের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে নিবিড়ভাবে জড়িত।
•অপরিবর্তনশীল সাক্ষীঃ বৃক্ষ নীরব অথচ শক্তিশালী সাক্ষী হিসেবে প্রকৃতির পরিবর্তন, ঋতুচক্র এবং সময়ের প্রবাহকে ধারণ করে। তাদের শাখায় পাখির কলতান, পাতায় বাতাসের ফিসফিসানি, এবং মূলে মাটির গভীরতা- সবকিছুই যেন এক দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। তারা অতীতকে বক্ষে ধারণ করে বর্তমানকে রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতের জন্য অক্সিজেন ও জীবন ধারণের উপাদান প্রস্তুত করে।
•প্রাণ সঞ্চারকারীঃ বৃক্ষ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপন্ন করে, যা প্রাণীজগতের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। তারা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই কারণে বৃক্ষকে 'আদি প্রাণ' বা সৃষ্টির মূলে থাকা সত্তা হিসেবে দেখা হয়, যারা যুগ যুগ ধরে প্রাণের ধারাকে সচল রেখেছে।
•পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৃক্ষ বন্দনা কবিতায় বৃক্ষকে কেবলমাত্র একটি উদ্ভিদ হিসেবে দেখেননি। বরং বলা যেতে পারে যে,বৃক্ষুকে মানব ইতিহাস, প্রকৃতি এবং প্রাণের অবিচ্ছিন্ন ধারার এক শক্তিশালী ও চিরন্তন প্রতিনিধি হিসেবে বৃক্ষবন্দনা কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক এবং আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDARBAN" Youtube channel 🙏
Comments
Post a Comment