Skip to main content

ভারতের অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালের ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।

ভারতের অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালের ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)

             •ভূমিকাঃ রাজ্যপাল এবং মন্ত্রিসভাকে নিয়ে ভারতের অঙ্গরাজ্য সমূহের শাসন বিভাগ গঠিত হয়। তবে তত্ত্বগতভাবে অঙ্গরাজ্যের শাসন বিভাগীয় প্রধান হলেন রাজ্যপাল।আর এই রাজ্যপালের নামেই রাজ্য সরকারের যাবতীয় কার্য পরিচালিত হয়।অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপাল সাধারণভাবে ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। এই রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলীকে মোটামুটি পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেই ক্ষমতা ও কার্যাবলী গুলি হল-

                •১)শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ

          •সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের শাসন ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। সাধারণভাবে বিধানসভা নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সেই দলের নেতা বা নেত্রীকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে থাকেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ ক্রমে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দপ্তর বন্টন ও শপথ বাক্য পাঠক্রমে দায়িত্ব রাজ্যপালের হাতে ন্যস্ত। সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা অনুসারে রাজ্যপাল কোন রাজ্যের সাংবিধানিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করলে, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জরুরি অবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করতে পারেন।

                •২) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ 

      ‌ •রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় রাজ্যপাল হলেন রাজ্য আইনসভার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি আইনসভার অধিবেশন আহ্বান, অধিবেশন স্থগিত,এবং প্রয়োজনে বিধানসভা ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের সুপারিশ করতে পারেন। তবে রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া বিধানসভায় পাশ হওয়া কোন বিল আইনের পরিণত হতে পারে না। এছাড়াও রাজ্য আইনসভার অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন সময়ে অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারেন । আর এই অর্ডিন্যান্স আইনসভা প্রণীত আইনের মতই কার্যকরী হয়।

                 •৩) অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ 

       •রাজ্যপাল যে সকল অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা ভোগ করেন সেগুলি হল যে, রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া আইন সভায় কোন দাবী ভোগ করা বা কোনো অর্থবিল উত্থাপন করা যায় না। এছাড়াও রাজ্যপালের হাতে রাষ্ট্রের আকস্মিক তহবিলের দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। যেকোনো জরুরি অবস্থার মোকাবিলার জন্য এই তহবিল থেকে রাজ্যপাল অগ্রিম অর্থ প্রদান করতে পারেন। 

               •) বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ

      •ভারতীয় সংবিধান অনুসারে রাজ্যপালের হাতে কিছু কিছু বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। আর এই সংবিধান অনুসারে রাজ্যপালের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি রাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতিকে নিয়োগ করে থাকেন। এছাড়াও দেওয়ানি আদালতের বিচারপতি, অতিরিক্ত জেলা জজ,দায়রা জজ প্রমুখদের রাজ্যপাল নিয়োগ,বদলি ও পদোন্নতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। পাশাপাশি অপরাধে দন্ডিত ব্যক্তির অপরাধের শাস্তি হ্রাস বা স্থগিত রাখা বা ক্ষমা করার ক্ষমতা রাজ্যপালের আছে।

                  •৫) স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাঃ 

      •ভারতীয় সংবিধান অনুসারে আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা,শাসন সংক্রান্ত, অর্থ সংক্রান্ত, বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতার ছাড়াও রাজ্যপালের হাতে আরও কতকগুলি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। আর সেই সকল ক্ষমতাগুলিকে রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলা হয়। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল মন্ত্রিসভার পরামর্শ ছাড়াই স্বাধীনভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।যে ক্ষমতা ভারতীয় সংবিধানে ১৬৩ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

                          •পদমর্যাদাঃ 

           পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ভারতবর্ষের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক শাসক হিসেবে রাজ্যপাল কতদূর তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন সে সম্পর্কে মতবিরোধের অবকাশ রয়েছে। তবে সংবিধান রচয়িতাগণ রাজ্যপালের পদটিকে নিয়মতান্ত্রিক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার পরিপেক্ষিতে তাঁকে প্রকৃত শাসক হিসেবে চিহ্নিত করতে চান। বাস্তবিক ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে রাজ্য মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক শাসক হিসেবে কাজ করতে হয়। আবার-

             কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যপাল ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তবুও রাজ্যপাল যদি সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা রীতিনীতি মেনে এবং রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন তাহলে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পক্ষে রাজ্যপালের মর্যাদা সুফল দান করতে পারে বলে মনে করা হয়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন "SHESHER KOBITA SUNDORBON" YOUTUBE CHANNEL

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...