Skip to main content

অনৈতিক(2nd.Sem.Phil.) বা নীতিবহির্ভূত ক্রিয়া কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক বা নীতি বর্হিভূত ক্রিয়ার উদাহরণ সহ আলোচনা করো।

অনৈতিক বা নীতিবহির্ভূত ক্রিয়া কাকে বলে?বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক বা নীতি বহির্ভূত ক্রিয়া উদাহরণসহ আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইন)

       • অনৈতিক বা নীতিবর্হিভূত ক্রিয়াঃ আমরা মানুষের কাজের নৈতিক বিচার করি। তবে মানুষের কিছু কাজের নৈতিক বিচার করা যায়, আবার কিছু কাজের নৈতিক বিচার করা যায় না। তাই-

          যে কাজগুলির নৈতিক বিচার করা যায়, তাকে বলা হয় নৈতিক ক্রিয়া। আর যে কাজগুলির নৈতিক বিচার করা যায় না,সেই কাজগুলি হল অনৈতিক ক্রিয়া। অর্থাৎ-

      অনৈতিক বা নীতিবহির্ভূত ক্রিয়া বলতে বোঝায়, যে ক্রিয়ার নৈতিক বিচার করা যায় না, যে ক্রিয়াকে নৈতিক ভালো বা নৈতিক মন্দ বলা যায় না, সেই ক্রিয়াকে বলা হয় অনৈতিক ক্রিয়া।


    •অনৈতিক বা নীতিবহির্ভূত ক্রিয়ার প্রকার•

১)স্বয়ংক্রিয় ক্রিয়া     ২) স্বতঃসঞ্জাত ক্রিয়া

৩) প্রতিবর্ত ক্রিয়া      ৪)প্রবৃত্তিজাত ক্রিয়া 

৫) ভাবজ ক্রিয়া।       ৬) অনুকরণমূলক ক্রিয়া

 ৭)আকস্মিক ক্রিয়া   ৮)অস্বাভাবিক ব্যক্তির ক্রিয়া।


            •  উদাহরণসহ আলোচনা •


১) স্বয়ংক্রিয় ক্রিয়াঃমানুষের অভ্যন্তরীণ দেহযন্ত্রের     ক্রিয়া হলো স্বয়ংক্রিয় ক্রিয়া। আর এই ক্রিয়া গুলি হল অনৈচ্ছিক ক্রিয়া, তাই এই ক্রিয়াকে বলা হয় অনৈতিক ক্রিয়া। যেমন -

      রক্ত চলাচল, শ্বাস প্রশ্বাস, পরিপাক ক্রিয়া, হৃদপিন্ডের ক্রিয়া ইত্যাদি।

২) স্বতঃসঞ্জাত ক্রিয়াঃ দেহের অভ্যন্তরীণ পেশি শক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে, ইচ্ছা নিরপেক্ষভাবে বহিঃপ্রকাশ ঘটে, সেই ক্রিয়াকে বলা হয় স্বতঃসঞ্জাত ক্রিয়া। যেমন -

         শিশুর হাত-পা ছোড়া, হাসি কান্না অনৈতিক ক্রিয়া। কেননা এগুলি অনৈচ্ছিক ক্রিয়া।

৩) প্রতিবর্ত ক্রিয়াঃ উদ্দীপক ইন্দ্রিয়কে উদ্দিপিত করা মাত্র চেতনার নিয়ন্ত্রণ ছাড়া, পূর্বশিক্ষা ছাড়া তৎক্ষণাৎ বারবার একইভাবে যে প্রতিক্রিয়া হয়, তাকে বলা হয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া। যেমন -

           গরম পাত্রে হাত লাগা মাত্র হাত সরিয়ে নেওয়া। এই ক্রিয়া অনৈচ্ছিক, তাই এই ক্রিয়া হলো অনৈতিক ক্রিয়া।

৪) প্রবৃত্তিজাত ক্রিয়াঃ যে জন্মগত শক্তির জন্য এক শ্রেণীর সকল প্রাণী শিক্ষা-নিরপেক্ষভাবে ফলাফল সম্বন্ধে সচেতন না হয়ে অজ্ঞাতসারে জৈব উদ্দেশ্য সাধন করে, তাকে বলা হয় সহজাত প্রবৃত্তি। আর এই সহজাত প্রবৃত্তি প্রকাশকে বলা হয় প্রবৃত্তিজাত ক্রিয়া। যেমন -

          খাদ্য সংগ্রহমূলক ক্রিয়া, আত্মরক্ষামূলক ক্রিয়া, বংশরক্ষামূলক ক্রিয়া প্রভৃতি।

৫) ভাবজ ক্রিয়াঃ যখন কোন মনের ভাব বা ধারণা এতই তীব্র হয় যে, তা ইচ্ছা নিরপেক্ষভাবে স্বতই কর্মে প্রবৃত্ত হয়, তখন সেই ক্রিয়াকে বলা হয় ভাবজ ক্রিয়া। যেমন -

         সিনেমাতে মারপিটের দৃশ্য দেখে সামনের ব্যক্তির মাথায় ঘুষি মারা ইত্যাদি। আর এই ক্রিয়াগুলি অনৈচ্ছিক, তাই অনৈতিক।

৬) অনুকরণমূলক ক্রিয়াঃ অনিচ্ছাকৃতভাবে অপরের অনুকরণ করে যে ক্রিয়া করা হয়, তাকে বলা হয় অনুকরণমূলক ক্রিয়া। যেমন-

      কতগুলি লোক একটি চোরকে মারতে দেখে রাম তাকে মারতে শুরু করল। এক্ষেত্রে রামের ক্রিয়াটি অনৈচ্ছিক অনুকরণশীল ক্রিয়া, তাই এটি অনৈতিক ক্রিয়া।

৭) আকস্মিক ক্রিয়াঃ আকস্মিক ক্রিয়া অনৈচ্ছিক ক্রিয়া, তাই এটি অনৈতিক ক্রিয়া। যেমন -

         ফুলদানিটি হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেল। এক্ষেত্রে ক্রিয়াটি অনৈচ্ছিক,তাই আকস্মিক ক্রিয়াটি অনৈতিক।


৮) অস্বাভাবিক ব্যক্তির ক্রিয়াঃ পাগল, জড়বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ, শিশুদের কাজ অনৈতিক। তাই তাদের কাজকে অনৈতিক কাজ বলা হয়। 

      সুতরাং আমরা বলতে পারি যে,সুস্থ, স্বাভাবিক, পরিণত বয়স্ক, বিচারবুদ্ধিরসম্পন্ন মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াই নৈতিকক্রিয়া। আর অবশিষ্ট সব কাজ অনৈতিক ক্রিয়া।


ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL YouTube Channel ।

       

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...