Skip to main content

ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে সাংবিধানিক সম্পর্ক আলোচনা করো।

ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে সাংবিধানিক সম্পর্ক আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)


         ভূমিকাঃ আমরা জানি যে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রে একটি কেন্দ্রীয় আইনসভা আছে। আর সেই কেন্দ্রীয় আইনসভা পার্লামেন্ট নামে পরিচিত। রাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা ও লোকসভা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে।আর এই পার্লামেন্টের দুটি কক্ষ- উচ্চ কক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভা, নিম্নকক্ষ অর্থাৎ লোকসভা। পার্লামেন্টের এই রাজ্যসভা ও লোকসভার মধ্যে যে সাংবিধানিক সম্পর্ক আছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-

     লোকসভা ও রাজ্যসভা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমান ক্ষমতা ভোগ করে থাকে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে লোকসভা রাজ্যসভার তুলনায় বেশি ক্ষমতা ভোগ করে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যসভা লোকসভা তুলনায় বেশি ক্ষমতা ভোগ করে থাকে। 


        •রাজ্যসভা ও লোকসভার সমান ক্ষমতা•

•১) সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজ্যসভা ও লোকসভা সমান ক্ষমতা ভোগ করে থাকে।উভয় কক্ষের সম্মতি ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা যায় না।

২) রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও পদচ্যুতি এবং উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজ্যসভা ও লোকসভা সমান ক্ষমতা ভোগ করে থাকে। 

•৩) পার্লামেন্টকে অবমাননার জন্য সদস্য বা সদস্যা নয় এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে রাজ্যসভা ও লোকসভা সমান ক্ষমতা ভোগ করে থাকে।

•৪) জরুরি অবস্থা অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজ্যসভা ও লোকসভা সমান ক্ষমতা ভোগ করে থাকে। 


লোকসভা রাজ্যসভার তুলনায় বেশি ক্ষমতা ভোগ করে যেসকল ক্ষেত্রে-


•ক) সাধারণ বিলঃ সাধারণ বিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে লোকসভা ও রাজ্যসভা সমান ক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে কিন্তু সাধারণ বিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যসভার তুলনায় লোকসভার ক্ষমতা অনেক বেশি। কারণ-

           কোন সাধারণ বিল নিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সেই বিরোধ মীমাংসার জন্য যৌথ অধিবেশন ডাকা হয়। এই যৌথ অধিবেশনের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে বিলের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। লোকসভার সদস্য সংখ্যা যেহেতু রাজ্যসভা তুলনায় বেশি সেহেতু লোকসভার মতামতই প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

•খ) অর্থবিলঃ অর্থবিল প্রথম লোকসভাতেই উত্থাপন করা হয়, রাজ্যসভাতে নয়। কোন বিল অর্থ বিল কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় লোকসভার স্পিকারকে। অর্থবিল লোকসভায় অনুমোদিত হওয়ার পরই রাজ্যসভায় যায়। রাজ্যসভা বিলটি অনুমোদন করুক বা না করুক ১৪ দিন পর বিলটি উভয় কক্ষের অনুমোদন লাভ করেছে বলে ধরে নেওয়া হয়। 

•গ) শাসন বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণঃ শাসন বিভাগকে একমাত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারে লোকসভা, রাজ্যসভা নয়। কেন্দ্রীর শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে। লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনের উপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব নির্ভর করে। লোকসভায় মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হলে মন্ত্রীসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। লোকসভার দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাব, মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা সূচক প্রস্তাব প্রভৃতি উত্থাপন করে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

রাজ্যসভা লোকসভার তুলনায় বেশি ক্ষমতা ভোগ করে যেসব ক্ষেত্রে-

•ক) রাজ্য আইনঃ সংবিধানের বিষয় ২৪৯ নম্বর ধারা অনুসারে রাজ্যসভা জাতীয় স্বার্থে রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে। এক্ষেত্রে লোকসভার কোন ক্ষমতা নেই। 

•খ) সর্বভারতীয় চাকরিঃ রাজ্যসভা জাতীয় স্বার্থে এক বা একাধিক সর্বভারতীয় চাকরি সৃষ্টি করতে পারে। লোকসভার এ ব্যাপারে কোন ক্ষমতা নেই। 

•গ) উপরাষ্ট্রপতি পদচ্যুতিঃ উপরাষ্ট্রপতির পদচ্যুতি সংক্রান্ত প্রস্তাব শুধুমাত্র রাজ্যসভাতে উত্থাপন করা যায়, লোকসভাতে নয়। 

             পরিশেষে আমরা বলতে পারি উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এ কথা অতি স্পষ্ট যে, রাজ্যসভা লোকসভার তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল। অবশ্য যেকোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। শাসন, আইন, অর্থ প্রভৃতি ক্ষেত্রে লোকসভা রাজ্যসভার তুলনায় অনেক উচ্চে অবস্থান করে। তাই বিভিন্ন সময়ে রাজ্যসভা অবলুপ্তির জন্য দাবি উঠে আসে। তবে ভারতের মতো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজ্যসভার প্রয়োজনীয়তা কোনভাবেই হ্রাস হয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ১৯৯৯ সালে বিহারে রাবড়ি দেবী মন্ত্রিসভা পুনঃ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজ্যসভার ভূমিকা ছিল অতি প্রশংসনীয়।


ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDORBON"             YOUTUBE CHANNEL ।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...