ভারতীয় নীতিশাস্ত্র অনুসারে কাকে এবং কেন পরম পুরুষার্থ বলা হয়? আলোচনা করো।•অথবা-মোক্ষকে পরম পুরুষার্থ বলা হয় কেন?তা বুঝিয়ে দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ সেমিস্টার, দর্শন মাইনর)।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতীয় নীতিশাস্ত্র অনুসারে, মোক্ষ বা নির্বাণকে পরম পুরুষার্থ বলা হয়। পুরুষার্থ হলো মানুষের জীবনের চারটি মূল লক্ষ্য- ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ। এদের মধ্যে প্রথম তিনটি হলো জাগতিক লক্ষ্য এবং চতুর্থটি হলো চূড়ান্ত ও আধ্যাত্মিক লক্ষ্য। এই প্রেক্ষিতে আমাদের এখন আলোচনা করে দেখাতে হবে মোক্ষকে কেন পরম পুরুষার্থ বলা হয়?
১) জীবনের চরম লক্ষ্যঃ আমরা জানি যে,ধর্ম, অর্থ এবং কাম হলো মোক্ষ অর্জনের সহায়ক বিষয়।তবে একজন মানুষ ধর্মীয় ও নৈতিক পথে অর্থ উপার্জন এবং কাম উপভোগ করলে তার মন শুদ্ধ হয় এবং সে মোক্ষের দিকে অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু এই তিনটিই বিষয় জীবনের শেষ লক্ষ্য নয়। বরং বলা যেতে পারে যে,মোক্ষই জীবনের চূড়ান্ত এবং সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
২)দুঃখের অবসানঃভারতীয় দর্শনে, জীবনের মূল সমস্যা হলো দুঃখ। জন্ম-মৃত্যুর চক্রে বারবার জন্মগ্রহণ করা এবং এর সাথে জড়িত দুঃখ, কষ্ট এবং যন্ত্রণা ভোগ করাকেই দুঃখ বলা হয়। আর সেখানে মোক্ষ হলো এই দুঃখের চক্র থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি।তবে মোক্ষ প্রাপ্তির পর জীবের আর পুনর্জন্ম সম্ভব হয় না ঠিকই কিন্তু সে জীবনে চিরন্তন শান্তি ও আনন্দ লাভ করে।
৩) আত্মার উপলব্ধিঃ মোক্ষ হলো আত্মার স্বরূপ উপলব্ধি। আর এখানে আত্মা হলো নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ ও মুক্ত। কিন্তু মায়ার প্রভাবে আত্মা নিজেকে শরীর, মন এবং ইন্দ্রিয়ের সাথে অভিন্ন মনে করে এবং এর ফলস্বরূপ নানা দুঃখ ভোগ করে। মোক্ষ হলো এই মায়ার বন্ধন থেকে মুক্তি এবং আত্মার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি।
৪)নিঃশর্ত আনন্দঃ অর্থ এবং কাম থেকে প্রাপ্ত আনন্দ শর্তযুক্ত এবং ক্ষণস্থায়ী। অর্থ থাকলে আনন্দ হয়, কিন্তু তা হারিয়ে গেলে দুঃখ আসে। কাম থেকে প্রাপ্ত আনন্দও ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু মোক্ষ থেকে প্রাপ্ত আনন্দ হলো নিঃশর্ত এবং চিরস্থায়ী। মোক্ষ প্রাপ্তির পর জীব আর কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল থাকে না এবং সে নিজের মধ্যেই চিরন্তন আনন্দ অনুভব করে।
৫)মুক্তির পথঃ মোক্ষ হলো সব ধরনের বন্ধন থেকে মুক্তি। এটি শুধু শরীরের বন্ধন নয়, বরং কামনা, বাসনা, অহংকার, রাগ, দ্বেষ এবং অজ্ঞানতার বন্ধন থেকেও মুক্তি। মোক্ষ প্রাপ্তির পর জীব সম্পূর্ণ স্বাধীন হয় এবং সে আর কোনো কিছুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।
•পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,মোক্ষকে পরম পুরুষার্থ বলা হয় তার প্রধান কারণ মোক্ষ মানব জীবনের সর্বোচ্চ এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য। যা সব দুঃখের চিরন্তন অবসান, আত্মার স্বরূপ উপলব্ধি, নিঃশর্ত আনন্দ এবং মানব জীবনে পূর্ণ স্বাধীনতা এনে দিতে সক্ষম।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏
Comments
Post a Comment