উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)।
আমরা ভারতীয় সংবিধান অনুসারে জানি যে,ভারতের উপরাষ্ট্রপতি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী। আর সংবিধান অনুসারে তাঁর ভূমিকা ও কার্যাবলী প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে বিভক্ত- রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে এবং রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে। আর এই প্রেক্ষিতে ভারতীয় সংবিধানে-
১. রাজ্যসভার পদাধিকার বলে চেয়ারম্যানঃ উপরাষ্ট্রপতির প্রধান ও স্বাভাবিক ভূমিকা হলো রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করা। এই ক্ষমতায় তিনি নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালন করেন। শুধু তাই নয় -
অধিবেশন পরিচালনাঃউপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করেন, সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখেন এবং আলোচনা ও বিতর্ক সুষ্ঠুভাবে হয় তা নিশ্চিত করেন।
নিয়ম-কানুন ব্যাখ্যাঃ তিনি সংসদীয় পদ্ধতি এবং রাজ্যসভার নিয়মাবলী ব্যাখ্যা করেন এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
নির্ণায়ক ভোটঃ কোনো বিষয়ে ভোটাভুটিতে উভয় পক্ষের ভোট সমান হলে তিনি নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট দিতে পারেন। অন্যথায়, তিনি সাধারণত ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেন না।
২. রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন:উপরাষ্ট্রপতি বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। আর সেই পরিস্থিতিগুলো হলো-
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্যতায়ঃরাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে উপরাষ্ট্রপতি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, কারণ এই সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতেঃযদি রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা, বিদেশে ভ্রমণ বা অন্য কোনো কারণে সাময়িকভাবে তাঁর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির সমস্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন ও যোগ্যতাঃউপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে। আবার তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে, তবে তিনি কোনো সংসদ বা রাজ্য আইনসভার সদস্য হতে পারবেন না।উপরাষ্ট্রপতিকে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি নির্বাচক মণ্ডলী দ্বারা নির্বাচিত করা হয়। তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ভারতের উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা হলো একদিকে রাজ্যসভার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটি সাময়িকভাবে রক্ষা করে সংবিধানকে সঠিক পথে পরিচালনা করা।
Comments
Post a Comment