Skip to main content

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যে সমস্ত পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল স সম্পর্কে আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যে সমস্ত পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল স সম্পর্কে আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান,মাইনর)।

               আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা সাধারণত ইন্দো-মার্কিন অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি  নামে পরিচিত। আর এই চুক্তিটি ভারতের পারমাণবিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। যেটি ২০০৫ সালে শুরু হয়ে ২০০৮ সালে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।আর সেই চুক্তির প্রেক্ষাপট হলো -

           ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা (পোখরান-১) করার পর, পারমাণবিক সরবরাহকারী দেশগুলো ভারতের উপর পারমাণবিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ভারত পারমাণবিক অপ্রসারণ চুক্তি (Nuclear Non-Proliferation Treaty - NPT) স্বাক্ষর না করায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো জ্বালানির অভাবে ধুঁকছিল। তবে-

            ২০০৫ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ একটি যৌথ বিবৃতিতে এই চুক্তির ঘোষণা করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।আর সেখানে এই চুক্তির মূল বিধান ও শর্তগুলি হলো+

১) ভারতকে তার অসামরিক ও সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি আলাদা করতে হবে।

২) অসামরিক পারমাণবিক চুল্লিগুলোকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (International Atomic Energy Agency - IAEA) তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।

৩) এই চুক্তির ফলে ভারত পারমাণবিক জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সরবরাহকারী গোষ্ঠীকে (NSG) ভারতের জন্য একটি বিশেষ ছাড় দিতে রাজি হয়েছিল, যা ভারতকে এনপিটি (NPT) স্বাক্ষর না করেও পারমাণবিক বাণিজ্য করার অনুমতি দেয়।

৪) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অসামরিক পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সরবরাহ করতে সম্মত হয়। তবে-

         এই পারমাণবিক চুক্তি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।কারণ এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। বরং বলা যেতে পারে যে,এটি শুধুমাত্র পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের পথই খুলে দেয়নি, এটি ভারতকে একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তবুও-

          এই চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। বামপন্থী দলগুলো এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে, কারণ তাদের মতে এটি ভারতের সার্বভৌমত্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। এর ফলে ২০০৮ সালে মনমোহন সিং সরকারকে সংসদে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় এবং এর ফলে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।আর সেই প্রেক্ষিতে+

ভারত আমেরিকার পারমানবিক চুক্তির ফলে ভারত বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রান্স, রাশিয়া এবং কানাডা উল্লেখযোগ্য।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...