Skip to main content

প্রফেসর শঙ্কুর 'ম্যাকাও' গল্পে তাঁর গবেষণার প্রধান সংকট ও তার সমাধান কিভাবে হয়েছিল তা আলোচনা করো ।

প্রফেসর শঙ্কুর 'ম্যাকাও' গল্পে তাঁর গবেষণার প্রধান সংকট ও তার সমাধান কিভাবে হয়েছিল তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মাইনর)।

       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রফেসর শঙ্কু একটি নতুন রাসায়নিক ম্যাকিউরিয়া আবিষ্কার করেছিলেন, যে আবিষ্কার আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।আসলে এই ম্যাকিউরিয়া একটি বিশেষ ধরনের ম্যাকাও পাখিকে খাওয়ানোর পর সেই পাখিটি অস্বাভাবিক রকমের বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে এবং মানুষের মতো আচরণ করতে থাকে। শঙ্কু তার এই আবিষ্কারকে ডঃ ম্যাকর নামক একজন বিজ্ঞানীর কাছে তুলে ধরেন, যিনি তাকে একসময় তার গবেষণার জন্য সাহায্য করেছিলেন। অতঃপর ম্যাকর শঙ্কুর আবিষ্কারের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন। তিনি শঙ্কুকে বলেন যে-                                                                                    "এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে মানুষের স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।" 

         আসলে ডঃ ম্যাকর ম্যাকইউরিয়া ব্যবহার করে পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে বুদ্ধিহীন করার পরিকল্পনা করে। ম্যাকর শঙ্কুর গবেষণার সব ডেটা এবং উপকরণ চুরি করে নিয়ে চলে যান, যা শঙ্কুর গবেষণাকে এক গুরুতর সংকটে ফেলে দেয়।আর সেই সংকটের উত্তরণে দেখি-

            ডঃ ম্যাকর যখন শঙ্কুর গবেষণার উপকরণ চুরি করে চলে যান, তখন শঙ্কু বুঝতে পারেন যে ম্যাকর তার আবিষ্কারকে ভুল পথে ব্যবহার করতে চাইছেন। শঙ্কু তার বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা দিয়ে এই সংকটের সমাধান করেন।আর সেখানে-

       ম্যাকাওয়ের সাহায্যঃ শঙ্কু দেখেন যে তাঁর সেই বুদ্ধিমান ম্যাকাও পাখিটি ম্যাকরের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে। পাখিটি শঙ্কুকে একটি বিশেষ উপায়ে সাহায্য করে। শঙ্কু বুঝতে পারেন যে ম্যাকাওটি তাকে ম্যাকরের গোপন ল্যাবরেটরির ঠিকানা খুঁজে বের করতে সাহায্য করছে।

         ল্যাবরেটরির সন্ধানঃ ম্যাকাওয়ের দেখানো পথে শঙ্কু ম্যাকরের গোপন ল্যাবরেটরি খুঁজে বের করেন। সেখানে তিনি দেখেন যে ম্যাকর তার পরিকল্পনা কার্যকর করতে ব্যস্ত।আর সেখানে -

         ম্যাকাওরের মোকাবিলাঃশঙ্কু ম্যাকরের ল্যাবরেটরিতে প্রবেশ করে তাকে ধরে ফেলেন। তিনি ম্যাকরকে বোঝান যে তার এই পরিকল্পনা কতটা বিপজ্জনক এবং কীভাবে এটি মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

         পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,তথ্য পুনরুদ্ধারঃশেষ পর্যন্ত শঙ্কু ম্যাকরের কাছ থেকে তাঁর গবেষণার সব ডেটা এবং উপকরণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। তিনি তার আবিষ্কারের ভুল ব্যবহার রোধ করতে সক্ষম হন এবং মানবজাতিকে একটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন।আর এইভাবে শঙ্কু তার নিজস্ব উদ্ভাবন ও ম্যাকাওয়ের বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তার গবেষণার সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পেরেছিলেন।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...