Skip to main content

সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে উপন্যাসটিতে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের কামনা, বাসনা, অহংকার এবং পাশবিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -আলোচনা করো ।

সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে উপন্যাসটিতে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের কামনা, বাসনা, অহংকার এবং পাশবিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মাইনর)।

          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে' মানুষের কামনা, বাসনা, অহংকার এবং পাশবিকতার এক অসাধারণ দলিল। আর এই উপন্যাসে তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মনস্তত্ত্বকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। আর সেই বিষয়টি নিয়েই গোটা উপন্যাসটি পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে গেছে।সেখানে আমরা উপন্যাসটিতে দেখি-

       •কামনা ও বাসনাঃউপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের মধ্যে কামনা ও বাসনার জটিল রূপ ফুটে উঠেছে। শামস-এর জীবনে অর্থ ও ক্ষমতার লোভ তাকে একের পর এক অনৈতিক কাজের দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে, সাবিত্রী-এর মতো চরিত্রদের জীবনেও প্রেম ও সম্পর্কের বাসনা এক ভিন্ন মাত্রার দ্বন্দ্ব তৈরি করে। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রই তাদের ব্যক্তিগত কামনা পূরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও নৈতিক বাধা অতিক্রম করতে চায়, যা তাদের জীবনের ট্র্যাজেডিকে আরও গভীর করে তোলে। অতঃপর-

         •অহংকারঃউপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্যে অহংকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শামস-এর অহংকার তাকে সমাজের উচ্চস্তরে পৌঁছানোর জন্য চালিত করে। কিন্তু এই অহংকারই তাকে তার পরিবার ও কাছের মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আবার, সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর অহংকার তাদের সাধারণ মানুষের প্রতি ঘৃণা ও অবহেলাকে প্রকাশ করে। এই অহংকারই চরিত্রদের পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটল ধরায় এবং তাদের পতনের কারণ হয়।

          •পাশবিকতাঃশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসে মানুষের ভেতরের পাশবিকতাকে নির্দ্বিধায় তুলে ধরেছেন। অর্থের লোভ, ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং সম্পর্কের জটিলতা চরিত্রদের মধ্যে হিংসা ও প্রতিশোধের জন্ম দেয়। শামস-এর ক্ষমতা দখলের জন্য অন্যকে আঘাত করা, বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া - এসবই মানুষের ভেতরের পাশবিকতার দিকটি ফুটিয়ে তোলে। এই পাশবিকতা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যেও এর প্রকাশ দেখা যায়।

             •পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,'সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে' উপন্যাসটি যেন সমাজের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ তার ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে। এই লড়াইয়ে কেউ জয়ী হয়, আবার কেউ সবকিছু হারিয়ে ফেলে। উপন্যাসটি প্রমাণ করে যে, মানুষের কামনা, বাসনা, অহংকার ও পাশবিকতা—এই সব কিছুই তার জীবনের উত্থান ও পতনের কারণ।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...