Skip to main content

পত্র সাহিত্য ও ডায়েরির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

পত্র সাহিত্য ও ডায়েরির মধ্যে পার্থক্য লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

    আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে ,পত্র সাহিত্য ও ডায়েরি এ দুটি বিষয় একে অপরের থেকে বেশ আলাদা। যদিও উভয়ের সঙ্গেই আছে ব্যক্তিগত অনুভূতির যোগ। আর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আমরা পত্র সাহিত‌্য ও ডায়েরির মধ্যে পার্থক্য করতে পারি-

                   •উদ্দেশ্যগত ভাবে-

        ১) পত্র সাহিত্যঃ একমাত্র সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হলো একজন নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে নিজের মনের ভাব, চিন্তা বা খবর পৌঁছে দেওয়া।তবে এটি একমুখী হলেও, লেখার সময় লেখকের মনে একজন পাঠক থাকেন এবং সেই পাঠকের প্রতি তার একটি বিশেষ সম্পর্ক বা সম্বোধন থাকে। অর্থাৎ, পত্র সাহিত্য প্রধানত যোগাযোগ এবং ভাব বিনিময়ের উদ্দেশ্যে লেখা হয়। যেমন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ছিন্নপত্রাবলী’ বা স্বামী বিবেকানন্দের ‘পত্রাবলী’। অন্যদিকে-

        •ডায়েরিঃ এটি লেখা হয় সম্পূর্ণ নিজের জন্য। এর কোনো নির্দিষ্ট পাঠক থাকে না। এখানে লেখক তার দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা, অনুভূতি, ভাবনা বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লিখে রাখেন। এটি অনেকটা আত্মকথনের মতো, যেখানে লেখকের নিজের মনের সঙ্গে কথোপকথন চলে।

                    •প্রকাশভঙ্গীগত-

      ২) পত্র সাহিত্যের ভাষা এবং বিষয়বস্তু পাঠকের ওপর নির্ভর করে। লেখক প্রাপকের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা অনুযায়ী ভাষা এবং লেখার ধরণ নির্বাচন করেন। এখানে লেখকের ভাবনা বা আবেগ প্রকাশের পাশাপাশি সাহিত্যিক সৌন্দর্য এবং শৈল্পিক গুণ থাকে, যা একে সাধারণ চিঠি থেকে আলাদা করে সাহিত্যের মর্যাদা দেয়। অন্যদিকে-

               •ডায়েরির ভাষা সাধারণত খুব ব্যক্তিগত, অনানুষ্ঠানিক এবং খোলামেলা হয়। এখানে লেখক কোনো সাহিত্যিক মানদণ্ড বা পাঠকের কথা না ভেবে নিজের মনের কথা সরাসরি লিখে ফেলেন। এর বিষয়বস্তু সাধারণত লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের দৈনন্দিন ঘটনা, সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন, ভয় এবং আত্মবিশ্লেষণ। এখানে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা কাঠামো থাকে না।

                  •রূপ ও প্রকাশগত-

          ৩) পত্র সাহিত্য সাধারণত একাধিক চিঠি নিয়ে গঠিত একটি সংকলন, যা পরে বই আকারে প্রকাশিত হয়। অনেক সময় লেখকের মৃত্যুর পর এই সংকলন প্রকাশিত হয়, যখন এর সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।অন্যদিকে-

             •ডায়েরি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট খাতায় বা ডিজিটাল ফরম্যাটে ব্যক্তিগতভাবে লেখা হয়। এটি লেখকের জীবদ্দশায় খুব কমই প্রকাশিত হয়। তবে কিছু ডায়েরি, যেমন অ্যান ফ্র্যাঙ্কের ‘ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল’, তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা সাহিত্যিক মূল্যের কারণে পরবর্তীকালে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তাই -

           পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, পত্র সাহিত্য হলো বহিমুখী, যেখানে লেখক পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের সাহিত্যিক দিকটি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ডায়েরি হলো অন্তর্মুখী, যেখানে লেখক কেবল নিজের মনের গভীরের কথাগুলো লিখে রাখেন, যা তার একান্ত নিজস্ব সম্পদ।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...