Skip to main content

মাত্রা কাকে বলে? মাত্রার প্রকারভেদ আলোচনা করো।

মাত্রা কাকে বলে? মাত্রার প্রকারভেদ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

মাত্রা কীঃবাংলা লিপিতে কোনো কোনো অক্ষরের ওপর যে সোজা রেখা টানা থাকে, তাকে মাত্রা বলে। এই মাত্রা বাংলা বর্ণমালার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি বর্ণের মাথার ওপর একটি কাল্পনিক ছাদ বা রেখার মতো এটি দেখা যায়। বর্ণের এই মাত্রা ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে বাংলা বর্ণমালাকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।

                        মাত্রার প্রকারভেদ

•মাত্রার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাংলা বর্ণমালাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১)পূর্ণ মাত্রার বর্ণঃযেসব বর্ণের উপরে সম্পূর্ণ রেখা বা মাত্রা থাকে, তাদেরকে পূর্ণ মাত্রার বর্ণ বলা হয়। বাংলা বর্ণমালায় এই ধরনের বর্ণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্বরবর্ণের মধ্যে ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে ২৬টি বর্ণ পূর্ণ মাত্রার।উদাহরণ-

 •স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ।                                 •ব্যঞ্জনবর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়।

২) অর্ধ মাত্রার বর্ণঃযেসব বর্ণের উপরে অর্ধেক বা আংশিক রেখা থাকে, সেগুলোকে অর্ধ মাত্রার বর্ণ বলা হয়। এই ধরনের বর্ণের সংখ্যা বাংলা বর্ণমালায় তুলনামূলকভাবে কম। মোট ৮টি অর্ধ মাত্রার বর্ণ রয়েছে।উদাহরণ-

 •স্বরবর্ণ: ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।  •ব্যঞ্জনবর্ণ: খ, ঙ, ণ, প, শ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃএই উদাহরণগুলি নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। সঠিক অর্ধ মাত্রার বর্ণগুলো হলো: ঋ, খ, গ, ণ, প, শ, ষ, র)

৩)মাত্রাহীন বর্ণঃ যেসব বর্ণের উপরে কোনো মাত্রা থাকে না, সেগুলোকে মাত্রাহীন বর্ণ বলা হয়। বাংলা বর্ণমালায় এই ধরনের বর্ণের সংখ্যা ১০টি।উদাহরণ-

 •স্বরবর্ণ: এ, ঐ, ও, ঔ। •ব্যঞ্জনবর্ণ: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

           পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,বাংলা বর্ণমালায় মাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি বর্ণের সঠিক রূপ নির্ণয়ে এবং লিখিত ভাষার সৌন্দর্য রক্ষায় সাহায্য করে। বিশেষ করে লেখার সময় বা টাইপ করার সময় মাত্রার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...