সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 'আমরা' কবিতার মধ্যে দিয়ে বাঙালির কৃতিত্বকে কীভাবে তুলে ধরেছেন তা আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, বাংলা-নবম শ্রেণী)
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'আমরা' কবিতাটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্ৰন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আর সেখানে‘আমরা' কবিতাটি বাংলা ও বাঙালির গৌরব ও কৃতিত্বকে কেন্দ্র করে রচিত। যেখানে-
কবিতার শুরুতে বাংলার রূপ বর্ণনার পরেই কবি বাঙালির গৌরবগাথা রচনা করেছেন। জলে-জঙ্গলে পূর্ণ বাংলায় বাঙালি জাতি সাপ ও বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে।আর সেখানে সিংহলি পুরাণ অনুসারে রাঢ় বাংলার সিংহপুরের রাজপুত্র বাঙালি বিজয়সিংহ লঙ্কা জয় করেন এবং তাঁর নামানুসারেই লঙ্কার সিংহল নামকরণ করা হয়।তবে-
বাঙালি বহির্দেশীয় আক্রমণকারী মগ ও মোগলের সঙ্গেও প্রাণপণ লড়াই করেছে। বারোভূঁইয়ার অন্যতম চাঁদ রায়, প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত করতে দিল্লির মোগল সম্রাটকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল।এই বাংলায় গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রম আছে।তাই কবি ধরে নিয়েছেন তাঁর সুপ্রাচীন সাংখ্য দর্শনের রচনাভূমি এই বাংলা। বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে গিয়ে বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও শিক্ষা বিস্তার করেন। শুধু তাই নয়-
নবদ্বীপের রঘুনাথ শিরোমণি মিথিলার পণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করে বাংলার গৌরব বৃদ্ধি করেন। বাঙালি কবি জয়দেবের লেখা কাব্য ‘গীতগোবিন্দ’ সংস্কৃত সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।স্থাপত্য-ভাস্কর্য-শিল্পকলাতেও বাঙালি কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে। পাল যুগের বিখ্যাত ভাস্কর ছিলেন বিট্পালও ধীমান। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণদেব আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাঙালিকে অপূর্ব মহিমা দান করেছেন।স্বামী বিবেকানন্দের বাণী মুগ্ধ করেছে বিশ্ববাসীকে।
বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু গাছের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন আবিষ্কার করেছেন। ড.প্রফুল্লচন্দ্র রায় রসায়ন শাস্ত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালির কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায় মানুষের মহামিলনের কথা বলেছেন।সবশেষে কবি আশা প্রকাশ করেছেন যে, বাঙালি একদিন তার প্রতিভা ও কর্মপ্রচেষ্টায় মধ্য দিয়ে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা লাভ করবে।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏
Comments
Post a Comment