Skip to main content

বিভিন্ন প্রকার শিক্ষামূলক অভীক্ষার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ আলোচনা করো

বিভিন্ন প্রকার শিক্ষামূলক অভীক্ষার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।

        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, শিক্ষামূলক অভীক্ষার দ্বারা বিশেষভাবে শিক্ষার্থীর কোন শিক্ষাগত বৈশিষ্ট্যের পরিমাপ করা হয়ে থাকে। আর এই শিক্ষামূলক অভীক্ষাকে ৩ শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। আর সেই ভাগ গুলি হল-

          ১) মৌখিক অভীক্ষাঃ কোনো বিশেষ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লব্ধজ্ঞানের সুস্পষ্ট ও সঠিক বিচারের জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নকরনের মাধ্যমে যে অভীক্ষা নেওয়া হয় তাকে মৌখিক অভীক্ষা বলা হয়

       ২) লিখিত অভীক্ষাঃকোন বিশেষ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লব্ধজ্ঞানকে সঠিকভাবে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে লিখিত আকারে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে যে অভিক্ষা নেওয়া হয় তাকে লিখিত অভীক্ষা বলা হয়। লিখিত অভিক্ষা আবার দুই প্রকার আর সেই প্রকার গুলি হল-

     ক) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষাঃ কোন অভীক্ষায় শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করে বা কতগুলো নির্দিষ্ট ধারণা থেকে সঠিক উত্তরটিকে নির্বাচন করতে হয়, সেই ধরনের অভীক্ষাকে নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা বলা হয়।

    খ) রচনাধর্মী অভীক্ষাঃ কোন অভীক্ষায় শিক্ষার্থীরা নিজস্ব রচনাশৈলী ও মৌলিক ভাষা ব্যবহারের দক্ষতার ধারা একাধিক বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে উত্তরটিকে লিপিবদ্ধ করে থাকে, সেই ধরনের অভিক্ষাকে রচনাধর্মী অভীক্ষা বলা হয়।

     গ) ব্যবহারিক অভীক্ষাঃ যে অভীক্ষার সাহায্যে কোন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান সংগঠনের দক্ষতার পরিমাপ করা হয় তাকে ব্যবহারিক অভীক্ষা বলা হয়।                                                                                •এছাড়াও শিক্ষামূলক অভীক্ষাকে অন্যভাবে আরোও চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেই ভাগ গুলি হলো-

 ১) পারদর্শিতার অভীক্ষা।  ২) নির্ণায়ক অভীক্ষা         ২)পূর্বভাসসূচক অভীক্ষা।  ৪) সমীক্ষা অভীক্ষা

.....................................................................

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...