Skip to main content

সর্বাত্মক পরিচয় পত্রের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো

সর্বাত্মক পরিচয় পত্রের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।

       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সর্বাত্মক পরিচয় পত্র, যা প্রায়শই ইউনিভার্সাল আইডি বা ইউনিভার্সাল আইডেন্টিটি কার্ড নামে পরিচিত।আর এটি হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য একটি একক পরিচয় পত্রের মধ্যে একত্রিত করা হয়।যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি পরিষেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করা।আর সেই পরিচয় পত্রের সুবিধা ও অসুবিধা  হলো-

                  •সুবিধা (Advantages)•

১)সহজ পরিষেবা প্রাপ্তিঃ এই ধরনের পরিচয় পত্র থাকলে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, যেমন রেশন, ভর্তুকি, পেনশন, এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজেই পাওয়া যায়। আলাদা আলাদা কার্ড বা নথি দেখানোর প্রয়োজন হয় না।

 ২) নকল প্রতিরোধঃএকটি সমন্বিত ডেটাবেস থাকার কারণে নকল পরিচয় পত্র তৈরি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আর্থিক জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধ কমে।

৩) সময় সাশ্রয়: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার নথি জমা দেওয়ার ঝামেলা থাকে না। এর ফলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হয় এবং মানুষের সময় বাঁচে।

৪)উন্নত ব্যবস্থাঃজরুরি অবস্থায়, যেমন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটলে, কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তির পরিচয় এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য দ্রুত পৌঁছে যায়, যা উদ্ধার ও চিকিৎসার কাজে সহায়ক হতে পারে।

৫)অর্থনৈতিক উন্নতি: আর্থিক লেনদেন এবং পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়লে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

                •অসুবিধা (Disadvantages)•

১)গোপনীয়তার ঝুঁকিঃএকটি একক পরিচয় পত্রে সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য জমা থাকলে ডেটা লঙ্ঘনের (data breach) ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি ডেটাবেস হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে একজন ব্যক্তির সব তথ্য একসাথে ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

২)গণ নজরদারঃ সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যদি এই ডেটার অপব্যবহার করে, তবে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করতে পারে। এর ফলে গণ নজরদারির একটি ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

৩) প্রযুক্তিগত সমস্যাঃ ডেটাবেস ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশাল পরিকাঠামো প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সিস্টেম ডাউন হলে লাখ লাখ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

৪)তথ্য ত্রুটিঃযদি ডেটাবেসে কোনো ভুল তথ্য থাকে, তবে তা সংশোধন করা অনেক জটিল হতে পারে এবং একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে অনেক সমস্যায় ফেলতে পারে।

৫) সামাজিক বিভাজনঃএই ব্যবস্থা যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর না হয়, তাহলে যারা প্রযুক্তি বা পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত, তারা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে।

         পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,সর্বাত্মক পরিচয় পত্রের সুবিধা অনেক হলেও এর বাস্তবায়নে গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার মতো গুরুতর বিষয়গুলো নিয়ে ভালোভাবে চিন্তা করা উচিত।যদি এর দুর্বল দিকগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা করা যায়, তবেই এই ব্যবস্থা একটি কার্যকর এবং উপকারী ব্যবস্থা হতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...