Skip to main content

শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক মূলক অভীক্ষার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক মূলক অভীক্ষার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।


          আমরা জানি যে,শিক্ষামূলক (educational) ও মনোবৈজ্ঞানিক (psychological) অভীক্ষা হলো কোনো ব্যক্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, জ্ঞান বা ক্ষমতা পরিমাপ করার কৌশল। যদিও উভয় অভীক্ষাই পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়- তাদের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, প্রয়োগ এবং ফলাফল ব্যাখ্যায় বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আর সেখানে-

                      •উদ্দেশ্যগত পার্থক্য•

            •শিক্ষামূলক অভীক্ষাঃ শিক্ষামূলক অভীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতি, জ্ঞান এবং কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের অর্জিত দক্ষতা পরিমাপ করা। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা ও সবলতা চিহ্নিত করে শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নত করা যায়। উদাহরণ- বার্ষিক পরীক্ষা, কুইজ, ভর্তি পরীক্ষা। কিন্তু -

         •মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষাঃমনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো,ব্যক্তির মানসিক বৈশিষ্ট্য যেমন— বুদ্ধিমত্তা, প্রবণতা, আগ্রহ, ব্যক্তিত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্য  পরিমাপ করা।যার সাহায্যে ব্যক্তির আচরণগত সমস্যা বা মানসিক ব্যাধি নির্ণয় করা যায়। উদাহরণ-বুদ্ধির অভীক্ষা (IQ Test), ব্যক্তিত্বের অভীক্ষা।

                       •বিষয়বস্তুগত পার্থক্য•

 শিক্ষামূলক অভীক্ষাঃ এটি সাধারণত পাঠ্যক্রম-ভিত্তিক হয়। এতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় যেমন— গণিত, বিজ্ঞান বা ইতিহাসের উপর প্রশ্ন থাকে। কিন্তু-

 মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষাঃ এর বিষয়বস্তু আরও ব্যাপক এবং এটি পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত। এতে এমন প্রশ্ন বা কাজ থাকে যা ব্যক্তির জন্মগত বা অর্জিত মানসিক ক্ষমতাকে যাচাই করে।

             •প্রয়োগ ও ফল প্রকাশগত পার্থক্য•

            শিক্ষামূলক অভীক্ষাঃএটি সাধারণত শ্রেণিকক্ষে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক বা প্রশিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলাফল সাধারণত সংখ্যায় (নম্বর বা গ্রেড) প্রকাশ করা হয়, যা শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা বা কৃতিত্বের একটি সরাসরি প্রতিফলন। কিন্তু-

            মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষাঃএটি সাধারণত একজন প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলাফলকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শ মানের (norm) সাথে তুলনা করে ব্যাখ্যা করা হয়, যা ব্যক্তির অবস্থানকে সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় তুলে ধরে।

            •আদর্শ মান ও নির্ভরতাগত পার্থক্য•

          শিক্ষামূলক অভীক্ষাঃ শিক্ষক নিজে এ ধরনের অভীক্ষা তৈরি করেন বলে এর মান শিক্ষক থেকে শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্ন হতে পারে। এর নির্ভরযোগ্যতা সাধারণত কম হয়। কিন্তু-

        মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষাঃ এ ধরনের অভীক্ষাগুলো আদর্শায়িত (standardized) হয়, অর্থাৎ এগুলোর নির্মাণ, প্রয়োগ, এবং ফলাফল ব্যাখ্যার জন্য কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এর নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা অনেক বেশি।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...