Skip to main content

যতি বা ছেদ চিহ্ন কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো।

যতি বা ছেদ চিহ্ন কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

            • যতিঃযতি বা ছেদ চিহ্ন হলো এক ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন যা বাক্যের অর্থকে সুস্পষ্ট করতে এবং বাক্যকে সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে ব্যবহার করা হয়।আসলে এটি লেখার সময় বাক্যের মধ্যে কোথায় থামতে হবে, কোথায় শ্বাস নিতে হবে, বা কখন কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন করতে হবে তা নির্দেশ করে।যার মাধ্যমে বাক্যের অর্থ পরিষ্কার হয় এবং পাঠকের পক্ষে তা বোঝা সহজ হয়।

          • যতি চিহ্ন ব্যবহারের উদ্দেশ্য •

১) বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করা।

২)বাক্যকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করা।

৩) লেখার গতি এবং ছন্দ বজায় রাখা।

 ৪) একই ধরনের শব্দ বা বাক্যকে আলাদা করা।

উদাহরণস্বরূপ, "এখানে থেমো না, যাও" এবং "এখানে থেমো, না যাও" এই দুটি বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা কেবল যতি চিহ্নের ব্যবহারের মাধ্যমেই বোঝা যায়।

               • যতি চিহ্নের শ্রেণীবিভাগ •

বাংলা ভাষায় সাধারণত ব্যবহৃত কিছু প্রধান যতি চিহ্নের প্রকারভেদ নিচে আলোচনা করা হলো-

১. দাঁড়িঃ (Full Stop),(।)- এটি বাক্যের সমাপ্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ উক্তির শেষে দাঁড়ি চিহ্ন বসে।উদাহরণ-

       •আমি বাড়ি যাচ্ছি।•সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

২. কমাঃ (Comma),(,)-কমা বাক্যের মধ্যে স্বল্প বিরতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত একই ধরনের একাধিক শব্দ বা বাক্যকে আলাদা করতে ব্যবহার করা হয় উদাহরণ-

 •রাজু, সুমি, রিতা এবং আবীর মাঠে খেলছে।•রোজ সকালে উঠে, হাত-মুখ ধুয়ে, তারপর পড়তে বসি।

৩. সেমিকোলন (Semicolon),(;)-সেমিকোলন কমার চেয়ে বেশি এবং দাঁড়ি-র চেয়ে কম বিরতি বোঝাতে ব্যবহার হয়। সাধারণত দুটি ভিন্ন বাক্য বা বাক্যাংশকে যুক্ত করতে এটি ব্যবহার করা হয়, যেখানে বাক্য দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।উদাহরণ-

আমি অনেক চেষ্টা করেছি; কিন্তু সফল হতে পারিনি।•তিনি ধনী ছিলেন; তবু তার মনে শান্তি ছিল না।

৪)প্রশ্নচিহ্ন (Question Mark-?)-কোনো প্রশ্নসূচক বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।উদাহরণ:

তোমার নাম কী? •তুমি কি আজ স্কুলে যাবে?

৫)বিস্ময়সূচক চিহ্ন (Exclamation Mark,!)-আবেগ, আনন্দ, দুঃখ, ঘৃণা, ভয়, বা বিস্ময় প্রকাশ করতে এই চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।উদাহরণ

বাহ! কী সুন্দর দৃশ্য!•আহ! কী ব্যথা!

৬) হাইফেন (Hyphen,-)-এটি দুটি শব্দকে একসাথে যুক্ত করতে ব্যবহার করা হয়, যেমন সমাসবদ্ধ পদ বা যৌগিক শব্দ।উদাহরণ-

 •ছোট-বড়, ভালো-মন্দ।• মা-বাবা।

৭)কোলন (Colon- (:)-কোলন সাধারণত উদাহরণ দিতে বা কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়।উদাহরণ-

যতি চিহ্ন অনেক প্রকার: দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন।•একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া।

এছাড়াও আরও কিছু যতি চিহ্ন রয়েছে যেমন উদ্ধরণ চিহ্ন (" "), বন্ধনী চিহ্ন ( ), অ্যাপোস্ট্রফি ('), ইত্যাদি। এই চিহ্নগুলো লেখার সময় সঠিক ব্যবহার জানা থাকলে লেখা আরও স্পষ্ট, অর্থপূর্ণ, এবং সুন্দর হয়।

.............................................................................................

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...