Skip to main content

প্রশ্নগুচ্ছের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি আলোচনা করো

প্রশ্নগুচ্ছের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।

                আমরা জানি যে,প্রশ্নগুচ্ছ বা Questionnaire হলো একগুচ্ছ সুসংগঠিত প্রশ্ন, যা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তৈরি করা হয়।যেটি গবেষণার কাজে, বাজার সমীক্ষায়, বা যেকোনো ধরনের মতামত জানতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।আর সেই প্রশ্নগুচ্ছের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-

                       •সুস্পষ্টতা ও সরলতা•

        •সহজবোধ্য ভাষাঃ প্রশ্নগুচ্ছের প্রশ্নগুলো এমন সহজ ভাষায় লেখা উচিত যেন উত্তরদাতা সহজেই তা বুঝতে পারে। কোনো ধরনের জটিল শব্দ বা কারিগরি পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যদি না উত্তরদাতা সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন।

      •একক প্রশ্নঃ প্রতিটি প্রশ্নে একটি মাত্র বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা উচিত। যেমন, "আপনি কি এই পণ্যটির গুণগত মান ও দাম পছন্দ করেন?"এই ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে দুটি আলাদা বিষয় রয়েছে। এর বদলে প্রশ্ন দুটিকে আলাদা করা যেতে পারে।

        •নির্দিষ্টতাঃপ্রশ্নগুলো নির্দিষ্ট হতে হবে। "আপনার অবসর সময় কেমন কাটে?"এর চেয়ে "আপনি সাধারণত অবসর সময়ে কী কী কাজ করেন?"প্রশ্নটি অনেক বেশি নির্দিষ্ট।

                          •যৌক্তিক ক্রম•

      •ধীরে ধীরে শুরুঃপ্রশ্ন গুচ্ছের শুরুতে সহজ এবং সাধারণ প্রশ্ন রাখা উচিত, যাতে উত্তরদাতা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল প্রশ্নগুলো সাধারণত শেষের দিকে রাখা হয়।

       •বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসঃ একই বিষয়ের প্রশ্নগুলোকে এক জায়গায় গুচ্ছাকারে সাজানো উচিত। এতে উত্তরদাতার জন্য উত্তর দেওয়া সহজ হয় এবং তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

      •ফিল্টার প্রশ্নঃ নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর কেবল নির্দিষ্ট উত্তরদাতার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, ফিল্টার প্রশ্ন ব্যবহার করে অপ্রাসঙ্গিক উত্তরদাতাদের সেই প্রশ্নগুলো থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।

            •উদ্দেশ্যমুখীতা (Goal-oriented)•

       •নির্দিষ্ট লক্ষ্য: প্রতিটি প্রশ্নের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং তা গবেষণার মূল লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন বাদ দেওয়া উচিত।

        •উত্তরের প্রকার: প্রশ্নগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা উচিত, যাতে সংগৃহীত তথ্য গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় উপায়ে বিশ্লেষণ করা যায়। যেমন, হ্যাঁ/না, বহুনির্বাচনী, রেটিং স্কেল, বা বর্ণনামূলক উত্তরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়।

                   •নিরপেক্ষতা (Neutrality)•

        •নিরপেক্ষ শব্দচয়নঃকোনো প্রশ্নই পক্ষপাতদুষ্ট বা কোনো বিশেষ উত্তরের দিকে ইঙ্গিত করবে এমন হওয়া উচিত নয়। যেমন, "আপনি নিশ্চয়ই আমাদের নতুন পণ্যটি খুব পছন্দ করেছেন?"—এই ধরনের প্রশ্ন পক্ষপাতদুষ্ট।

     •নেতিবাচক প্রশ্ন পরিহারঃ প্রশ্নটি নেতিবাচকভাবে তৈরি না করাই ভালো, কারণ এটি অনেক সময় উত্তরদাতার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। যেমন, "আপনি কি মনে করেন না যে এই নীতিটি অকার্যকর?"এর চেয়ে "আপনি কি মনে করেন এই নীতিটি কার্যকর?"জিজ্ঞাসা করা অধিক ভালো।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...