Skip to main content

উদাহরণসহ ধ্বনির শ্রেণীবিভাগ আলোচনা করো।

উদাহরণসহ ধ্বনির শ্রেণীবিভাগ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

             আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ধ্বনি মূলত দুই প্রকার- স্বরধ্বনি এবং ব্যঞ্জনধ্বনি।আর এই দুটি প্রধান প্রকারভেদকে যেভাবে ভাগ করা হয় তাহলো-

১)স্বরধ্বনিঃস্বরধ্বনি হলো সেইসব ধ্বনি, যা উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোথাও কোনো বাধা পায় না। ফুসফুস থেকে বাতাস সরাসরি বেরিয়ে আসে।আর বাংলায় এই স্বরধ্বনির সংখ্যা হলো মোট ১১টি। আবার যার মধ্যে মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।

                •স্বরধ্বনির শ্রেণীবিভাগ•

বাংলায় স্বরধ্বনিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।আর সেই ভাগ গুলি হল- 

১)হ্রস্বস্বরঃ হ্রস্বস্বর হলো সেই স্বরধ্বনি,যে ধ্বনিগুলি উচ্চারণে কম সময় লাগে। যেমন: অ, ই, উ, ঋ।

২) দীর্ঘস্বরঃ দীর্ঘস্বর হলো সেই স্বরধ্বনি,যে ধ্বনিগুলিকে উচ্চারণে বেশি সময় লাগে। যেমন: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

৩) যৌগিক স্বরঃ যখন দুটি স্বরধ্বনি একসাথে মিলিত হয়ে একটিমাত্র স্বর তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক স্বর বলে। যেমন: ঐ (অ+ই), ঔ (অ+উ)।

                 •ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণীবিভাগ•

ব্যঞ্জনধ্বনিঃ ব্যঞ্জনধ্বনি হলো সেইসব ধ্বনি, যা উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে কোথাও না কোথাও বাধা পায়। তবে এই ধ্বনিগুলি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা যায় না।আর এই ব্যঞ্জনধ্বনিকে যেভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়,তাহলো-

১)স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিঃ যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ, ঠোঁট, বা দাঁতের মতো কোনো অঙ্গ মুখের অন্য কোনো অংশকে স্পর্শ করে বাতাসকে বাধা দেয়, তাদের স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। এই ধ্বনিগুলি পাঁচটি বর্গে বিভক্ত।আর সেই বর্গ গুলি হলো-

• ক-বর্গঃ ক, খ, গ, ঘ, ঙ (উচ্চারণস্থান: কণ্ঠ)

চ-বর্গঃ চ, ছ, জ, ঝ, ঞ (উচ্চারণস্থান: তালু)

• ট-বর্গঃ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ (উচ্চারণস্থান: মূর্ধা)

ত-বর্গঃ ত, থ, দ, ধ, ন (উচ্চারণস্থান: দন্ত)

প-বর্গঃ প, ফ, ব, ভ, ম (উচ্চারণস্থান: ওষ্ঠ)

২)অন্তঃস্থ ও উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি

ক) অন্তঃস্থ ব্যঞ্জনধ্বনিঃ'অন্তঃস্থ' শব্দের অর্থ হলো 'মাঝে অবস্থিত'।ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণের ক্ষেত্রে, যে ধ্বনিগুলি স্পর্শ ব্যঞ্জন এবং উষ্ম ব্যঞ্জন-এর মাঝামাঝি অবস্থান থেকে উচ্চারিত হয়, তাদের অন্তঃস্থ ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। যেমন-য,র,ল,বা।

খ) উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনিঃ যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বাতাস ঘষা লেগে এক ধরনের শিস ধ্বনি তৈরি করে। যেমন: শ, ষ, স, হ। এছাড়াও অন্যান্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি হলো-

অনুস্বারঃ এটি একটি নাসিক্য ধ্বনি। যেমন: রঙ, সং।

বিসর্গ (ঃ): এটি শ্বাসজনিত ধ্বনি। যেমন: দুঃখ।

•চন্দ্রবিন্দু (ঁ): এটি স্বরধ্বনির নাসিক্য রূপ প্রকাশ করে। যেমন: চাঁদ, বাঁশ।

..............................................................................................

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...