Skip to main content

কবি জীবনানন্দ দাশের 'তিমির হননের গান' কবিতায় একদিকে দেখা যায় আশা ও নিরাশার দ্বন্দ্ব, অপরদিকে দেখা যায় আলো ও অন্ধকারের দ্বন্দ্ব- আলোচনা করো।


কবি জীবনানন্দ দাশের 'তিমির হননের গান' কবিতায় একদিকে দেখা যায় আশা ও নিরাশার দ্বন্দ্ব, অপরদিকে দেখা যায় আলো ও অন্ধকারের দ্বন্দ্ব- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার)

        •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, মৃত্যু চেতনার কবি জীবনানন্দ দাশ 'তিমির হননের গান' কবিতায় তিমির (অন্ধকার)ও আলোর চিরন্তন দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন।যেখানে 'তিমির' শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক দুঃখ-কষ্ট এবং অন্ধকারের প্রতীক।আর আলো জ্ঞান, মুক্তি ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।শুধু তাই নয়-

       তিমির হননের গান কবিতায় কবি মানবজীবনের গভীর বেদনা এবং তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা আশার এক প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেছেন।যেখানে অন্ধকারকে ধ্বংস করে আলোর অভিমুখে যাত্রার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে।আর সেই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশে আমরা দেখতে পাই যে-

          • অন্ধকার ও আলোর দ্বন্দ্বঃ আলোচ্য কবিতায় 'তিমির' বলতে শুধুমাত্র শারীরিক অন্ধকারকেই বোঝানো হয়নি, বরং বলা যেতে পারে তিমির মানুষের মনের গভীর হতাশা, ভয়, অজ্ঞানতা, এবং সামাজিক অন্যায়ের প্রতীক হিসেবেও দেখানো হয়েছে।এর বিপরীতে 'আলো' হলো জ্ঞান, সাহস, মুক্তি এবং নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। আর সেই সম্ভাবনায় থাকে -

     • মানবজীবনের গভীর বেদনাঃ কবি মানবজীবনের বিভিন্ন জটিলতা, যেমন আর্থিক কষ্ট, মানসিক যন্ত্রণা, এবং সমাজের প্রতি হতাশা এই সমস্ত অন্ধকার দিকগুলোকে তুলে ধরেছেন। তবে কবির আশা করেন যে-

      • তিমির বা অন্ধকারের বিনাশের মাধ্যমে কবি মানবজীবনের মুক্তি ও আলোর অভিমুখে যাত্রার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। কবি বিশ্বাস করেন যে, এই অন্ধকারকে জয় করে মানুষ এক নতুন, আলোকিত জীবন খুঁজে নিতে পারবে। আর সেখানেই আমরা খুঁজে বেড়াই-

        প্রতীকী ব্যঞ্জনা।এই কবিতা জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত 'রূপসী বাংলা' এবং 'বাংলার প্রকৃতি'র চিত্রকল্পেরও একটি অংশ। তবে এখানে তিনি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বরং মানুষের জীবনের গভীরতম অনুভূতি, যেমন আশা ও নিরাশার যে দ্বন্দ্ব, সেই বিষয়গুলিকেও প্রতীকী রূপে তুলে ধরেছেন। 

       •ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...