Skip to main content

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা নাটকের প্রমোদোদ্যানের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা নাটকের প্রমোদোদ্যানের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা আলোচনা করো। •অথবা• 'অন্ধকার ঘর' 'পথ' ও 'বসন্ত ঋতুর' ন্যায় প্রমোদোদ্যানে অগ্নিকান্ডের দৃশ্যটি রাজা নাটকে বিশেষ তাৎপর্যবহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS10,Unit3)

             আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা' নাটকে প্রমোদোদ্যানে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, এই বিষয়টি নাটকটির মূল ভাববস্তু প্রকাশের ক্ষেত্রে এক চূড়ান্ত মোড় হিসেবে কাজ করেছে। আর সেই প্রেক্ষিতে এই প্রমোদোদ্যানে এই রাজা নাটকের গুরুত্ব বহুমাত্রিক।এই বহুমাত্রিক দৃষ্টিতে-

          আমরা রাজা নাটকের সপ্তম দৃশ্যে দেখি যে, রানীর প্রাসাদের আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। কাঞ্চিরাজ প্রাণভয়ে পথ খুঁজছেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ সুন্দর রাজবেশীকে রাজা মনে করে সুদর্শনা তাকে রক্ষা করতে বলেন। কিন্তু তিনি রাজা নন, ভন্ড পাষণ্ড। একথা জানালে রানী নিজে ঘৃণায় দগ্ধ হন। অতঃপর তিনি যখন জানলেন তিনি যাঁকে রাজা ভেবেছেন, তিনি আসল রাজার নন। তবে রানী সুদর্শনা-

    •মোহমুক্তি ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির মাধ্যমে রাজার বাহ্যিক রূপ দেখতে চেয়েছিলেন এবং এই রূপের মোহে পড়ে কাঞ্চীরাজকে আসল রাজা বলে ভুল করেছিলেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সুদর্শনার সেই রূপতৃষ্ণা ও মোহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে, বাইরের রূপে নয়, বরং বিপদ ও দুর্যোগের মধ্যে অন্ধকার গৃহের রাজা অর্থাৎ অরূপের মধ্যেই সত্যের সন্ধান মেলে। পাশাপাশি-

        আমরা চরিত্রের পরিণতি দানে দেখি যে, এই ভয়াবহ দৃশ্যটি সুদর্শনার অহংকার ও ভ্রান্তি দূর করে তাঁকে সত্যিকারের আত্ম-উপলব্ধি এবং আত্ম-শুদ্ধির পথে চালিত করে।আসলে আগুনের দাহ তাঁর মিথ্যা অভিমানকে ভস্মীভূত করে এবং তিনি রাজার কাছে তাঁর পাপ স্বীকার করে নেন। অতঃপর আমরা দেখি- 

        •নাটকীয় পরিণতি ও ক্লাইম্যাক্স। প্রমোদোদ্যানে আগুন লাগার ঘটনাটি নাটকের সংঘাত অর্থাৎ ক্লাইম্যাক্স সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, নাটকটির মূল বিষয়টি দ্রুত পরিণতি দিকে নিয়ে যায়।আর এই পরিস্থিতিতেই কাঞ্চীরাজ ও সুবর্ণ রাজারূপী ভণ্ডদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশিত হয়। ঠিক সেই সময়ে সুদর্শনা চরম বিপদে রাজার প্রতি তাঁর অবিচল নির্ভরতা উপলব্ধি করেন। যেখানে-

           • রূপক অর্থে নাটকটির গুরুত্ব।রবীন্দ্রনাথের এই রাজা নাটকটি মূলত জীবাত্মা (রানী সুদর্শনা) পরমাত্মার (রাজা) মিলনের আধ্যাত্মিক তত্ত্ব নিয়ে রচিত। রূপক অর্থে এই অগ্নিকাণ্ড হলো দুঃখের তাপ, যা জীবনকে পরিশুদ্ধ করে এবং সত্যের পথে নিয়ে যায়। এই দুঃখ ও বিপদের মাধ্যমেই সুদর্শনা তাঁর চির-আরাধ্য রাজার অরূপ সত্তাকে যথার্থভাবে চিনতে ও গ্রহণ করতে সক্ষম হন।আসলে-

              প্রমোদোদ্যানে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি রানী সুদর্শনার ভ্রান্তি থেকে মুক্তি, আত্মশুদ্ধি, এবং রাজার অরূপ চেতনার সঙ্গে তাঁর চূড়ান্ত মিলনের অপরিহার্য সোপান।যে মিলন নাটকটির ভাবগত গভীরতা ও আধ্যাত্মিক ব্যঞ্জনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এ তথ্য আমাদের স্বীকার করতে কোন অসুবিধা নেই।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...