Skip to main content

খেয়া' কবিতায় কবি 'সকাল হইতে সন্ধ্যা'কেন বলেছেন ?দুই গ্রাম কীসের ব্যঞ্জনা বয়ে এনেছে? লেখো।

'খেয়া' কবিতায় কবি 'সকাল হইতে সন্ধ্যা'কেন বলেছেন ?দুই গ্রাম কীসের ব্যঞ্জনা বয়ে এনেছে? লেখো।(পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ,নবম শ্রেণী)।

       রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খেয়া' কবিতাটি চৈতালি কাব্যগ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। আর সেই কবিতায় কবি 'সকাল হইতে সন্ধ্যা' কথাটি বলেছেন।যে কথাটির মধ্যে গভীর ব্যঞ্জনা নিহীত রয়েছে।আর সেখানে-

'সকাল হতে সন্ধ্যা' বলার কারণঃ সাধারণভাবে 'সকাল' এবং 'সন্ধ্যা' শব্দ দুটি দিনের শুরু এবং দিনের শেষ সময়কে বোঝায়।আর এই দুই সময়েই নদীর এপার-ওপারের গ্রাম দুটিতে খেয়া নৌকায় মানুষের আনাগোনা চলতে থাকে। অর্থাৎ-এই সময়কালে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ও নিরন্তরভাবে চলে। যেখানে-

        •সকাল ও সন্ধ্যার গভীরতর ব্যঞ্জনা•

সকালঃ মানবজীবনের সূচনা বা জন্মকে ইঙ্গিত করে।

সন্ধ্যাঃ মানবজীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যুকে ইঙ্গিত করে।

         আসলে কবি এই দুই শব্দের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, খেয়াঘাটে খেয়া নৌকার চলাচল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্থাৎ সারাদিন ধরে চলে। ঠিক তেমনই জীবনরূপী নদীর স্রোতে মানুষের জন্ম (সকাল) থেকে মৃত্যু (সন্ধ্যা) পর্যন্ত এই  জীবনচক্র চলতে থাকে।এই চলতে থাকা চিরন্তন সত্য, যে সত্য কোনো জাগতিক কোন উত্থান-পতনের দ্বারা বিঘ্নিত হয় না। আর সেখানে-

•দুই গ্ৰামের ব্যঞ্জনাঃ আলোচ্য কবিতায় নদীর দু'পাড়ে অবস্থিত এই ‌‌নাম না জানা দু'খানি গ্ৰাম কোনো নির্দিষ্ট স্থানের প্রতীক নয়। বরং বলা যেতে পারে, এগুলি মানবজীবনের চিরন্তন দুটি আবাসস্থলের ব্যঞ্জনা বয়ে এনেছে।আর সেই দু'টি ব্যঞ্জনা হলো-

• একটি গ্রাম (এপার)-মানবজীবনের পৃথিবী, কর্মক্ষেত্র বা জন্মস্থান।

• অপর গ্রাম (ওপার)- মানবজীবনের জীবনের সমাপ্তি বা অন্তিম আবাস, অর্থাৎ পরলোক।

        যুগ যুগ ধরে নীরব সাক্ষী হয়ে এই দুই গ্রাম দুটি একে অপরের দিকে চেয়ে থাকে। এই গ্রাম দুটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে- মানুষ জীবনধারণের প্রয়োজনে এক পার থেকে অন্য পারে ছোটে।আবার জীবন শেষে নিজের গন্তব্যে ফিরে যায়। অর্থাৎ-

       জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে মানুষের অনন্ত যাতায়াত, দুটি গ্রাম সেই অনন্ত জীবন-মৃত্যুর চিরন্তন সত্যকে বহন করে।আর 'খেয়া' নৌকা হলো সেই যাতায়াতের তাদের বাহক বা যোগসূত্র।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...