Skip to main content

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা প্রাসঙ্গিক? তার প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা প্রাসঙ্গিক? তার প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর, প্রথম ইউনিট)।

             • আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বৌদ্ধযুগে যে বৌদ্ধ বিহারগুলিতে যে গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল-সেই শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমান সময়কালে শিক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। তার প্রধান কারণগুলি আমরা নিম্ন সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো-

১)নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ 

        •মূল্যবোধের শিক্ষাঃ আমরা জানি যে,আধুনিক শিক্ষায় যেখানে প্রধানত জ্ঞান অর্জন ও ব্যবহারিক দক্ষতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আর সেই গুরুত্বে বৌদ্ধ শিক্ষা নৈতিকতা, করুণা, অহিংসা এবং ধ্যানের মাধ্যমে মনের প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই মূল্যবোধ গুলি বর্তমান সমাজের অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

     •চরিত্রের পরিপূর্ণ বিকাশঃবৌদ্ধ শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর চরিত্রের পরিপূর্ণ বিকাশ। যেখানে শীল (নৈতিক আচরণ), সমাধি (মানসিক শৃঙ্খলা) এবং প্রজ্ঞা (জ্ঞান বা প্রজ্ঞা)-র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলী উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হয়।যা আধুনিক সমাজের একজন আদর্শ নাগরিক গঠনে অতি অপরিহার্য।

সামগ্রিক বিকাশ এবং মনস্তত্ত্বের দিক

       •ব্যক্তি মনোযোগ: বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত প্রবণতা ও মানসিক উৎকর্ষ অনুযায়ী শিক্ষাদানের নীতি প্রচলিত ছিল, যা আধুনিক শিক্ষার ব্যক্তিবৈষম্যের নীতি এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

      •মনের স্বরুপ বিশ্লেষণঃ বৌদ্ধ জ্ঞানতত্ত্বে মনের স্বরূপ, মনের কার্যাবলী এবং আবেগের গভীর বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে।যা আধুনিক মনস্তত্ত্বে এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা চর্চায় এই প্রাচীন জ্ঞান অত্যন্ত সহায়ক।

      •দুঃখ নিবারণঃ বুদ্ধের শিক্ষা দুঃখের কারণ এবং তা নিবারণের পথ দেখায়, যা আজকের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য  এবং জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৩.ব্যবহারিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক

      •বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার কর্মবাদের গুরুত্বঃবৌদ্ধ দর্শনের কর্মবাদ তত্ত্ব শিক্ষার্থীদের আত্ম-প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগের মাধ্যমে জীবনে সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করে, যা অলসতা দূর করে এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।

    •কার্যকারণ সম্পর্কঃ প্রতীত্যসমুৎপাদ বা কার্যকারণ সম্পর্ক আলোচনার মাধ্যমে বুদ্ধ দেখিয়েছেন যে সমস্ত কিছুই কারণের উপর নির্ভরশীল। এই ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি ও বিচার-বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি।

        •সবার জন্য শিক্ষাঃ প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ধারণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

         •পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক শিক্ষাকে শুধুমাত্র জ্ঞানার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, তার মানবতার বিকাশ, মানসিক শান্তি ও নৈতিক মূল্যবোধের উপর জোর দিয়ে একটি সমন্বিত ও সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দিতে পারে এ তথ্য সত্য।

          ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...