Skip to main content

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হলুদ পোড়া গল্পটিতে অন্ধবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতা ও মনোবিকলন তুলে ধরা হয়েছে -আলোচনা করো।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হলুদ পোড়া' গল্পটিতে অন্ধবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতা ও মনোবিকলন তুলে ধরা হয়েছে -আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)।

           •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হলুদ পোড়া' গল্পটি শুধুমাত্র একটি রহস্য বা ভৌতিক আখ্যান নয়, বরং বলা যায় যে,এটি একটি গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস, মনস্তত্ত্বের জটিলতা এবং প্রচ্ছন্ন যৌনবিকারের এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ।যে বিশ্লেষণে দেখা যায় ভৌতিক অন্ধবিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতা এবং মনোবিকলন।আসলে-

          •'হলুদ পোড়া'গল্পটি একটি গ্রামীণ পটভূমিতে দুটি রহস্যময় খুনের ঘটনা দিয়ে শুরু হয়। যেখানে একজন মাঝবয়সী পুরুষ বলাই চক্রবর্তী এবং একজন যুবতী নারী শুভ্রা খুন হয়।তবে এই দুটি খুনের কোনো সুস্পষ্ট সংযোগ খুঁজে না পাওয়ায় গ্রামের মানুষের কল্পনা ও গুজব ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর সেই গুজব ও কল্পনার মধ্যে পাই-

      •গভীর রহস্য ও কুসংস্কারঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হলুদ পোড়া গল্পে প্রধানত দুটি খুনের পর সৃষ্ট রহস্য ও আতঙ্ককে কাজে লাগানো হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রামের লোকেরা খুনের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পায় না।তবে তারা এই খুনের ঘটনাকে কুসংস্কার বশতঃ প্রেতাত্মার কাজ বলে ধরে নেয়। বিশেষত-

           • বলাই চক্রবর্তীর ভাইপো নবীন চক্রবর্তীর স্ত্রী দামিনীর উপর যখন প্রেতাত্মার 'ভর' হয় এবং সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে, তখন এই ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়।আর সেখানে ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক করানো হয়, 'হলুদ পোড়া' সহ নানা ধরনের অলৌকিক উপাচার ব্যবহার করা হয় প্রেতাত্মাকে তাড়ানোর জন্য। পাশাপাশি আমরা দেখি-

       •মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাঃ আলোচ্য গল্পে 'ভূত'-এর ধারণার আড়ালে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা এবং যৌন বিকারের ইঙ্গিত দেখানো হয়েছে।আর সেখানে দামিনীর অস্বাভাবিক আচরণকে আপাতদৃষ্টিতে 'ভূতের ভর' মনে করা হলেও, লেখক দেখিয়েছেন এর মূলে হয়তো রয়েছে মানসিক জটিলতা। তাই গল্পের শেষে দামিনীর উন্মাদনার কারণ এবং তার স্বামীর প্রতিক্রিয়া এই দিকটিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এছাড়াও গল্পটিতে আছে-

        •সামাজিক বাস্তবতাঃ হলুদ পোড়া গল্পটি গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস, অশিক্ষা এবং ভূতের ভয়কে কীভাবে বাস্তব সমস্যা সমাধানের পথে বাঁধা করে তোলে, তা স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। তবে খুনের মতো গুরুতর অপরাধের কারণ অনুসন্ধানের বদলে সকলে অলৌকিক ব্যাখ্যায় বিশ্বাসী হয়ে পড়ে। তবে-

          মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় হলুদ পোড়া গল্পে দেখিয়েছেন যে, কীভাবে যুক্তিহীনতা,কুসংস্কার একটি সমাজের মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে।আর সেই আচ্ছন্নতার কারণে বাস্তব অপরাধ ও মনোবিকার চাপা পড়ে যায়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...