Skip to main content

ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণগুলি আলোচনা করো।

ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ,ভূগোল-নবম শ্রেণী)।

         •আমরা জানি যে,ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়  সৃষ্টি হয় এই অঞ্চলের অনুকূল পরিবেশগত কারণে।তবে ঘূর্ণিঝড় হলো একটি উষ্ণ-কেন্দ্রিক নিম্নচাপ ব্যবস্থা যেটি প্রধানত উষ্ণ সমুদ্রের জলের উপর তৈরী হয় এবং সেখান থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টির মূল কারণগুলি  হলো-

১)উষ্ণ সমুদ্রের জলঃ ঘূর্ণিঝড়ের মূল চালিকা শক্তি হলো সমুদ্রের জল।এর জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে 26.5° থেকে 27° সেলসিয়াস থাকা আবশ্যক।এই উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সমুদ্রের জল থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প তৈরি হয়,যে বাষ্প বাতাসের সাথে উপরে উঠে  ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে।

২)গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টিঃ উষ্ণ জল থেকে সৃষ্ট জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ ব্যাপকভাবে কমে যায়। আর যার ফলে একটি গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের হয়।

৩)সুপ্ততাপের জোগানঃ উপরে ওঠা উষ্ণ,আর্দ্র বাতাস শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়।আর এই ঘনীভবনের সময় প্রচুর পরিমাণে সুপ্ততাপ (latent heat) বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়ে তার চারপাশের বাতাসকে আরও উষ্ণ ও হালকা করে দ্রুত উপরে উঠে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে,যা অত্যন্ত শক্তিশালী।।

৪)কোরিওলিস বলের উপস্থিতিঃপৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কোরিওলিস বল নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হওয়া বাতাসকে সরলরেখায় না গিয়ে ঘূর্ণনের সৃষ্টি করে। এটিই ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণি প্রকৃতি দেয়।

৫) কম উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহের তারতম্যঃ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বাতাসের গতির পরিবর্তন (উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহের তারতম্য) কম থাকতে হয়। এই শর্ত পূরণ হলে, ঘূর্ণিঝড়ের উল্লম্ব কাঠামো (মেঘপুঞ্জ) সোজা ও সুসংগঠিত থাকতে পারে এবং শক্তি অর্জন করতে পারে।

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, উপরিউক্ত কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবেই ক্রান্তীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে (যেমন বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ইত্যাদি) ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম হয।আর সেই ঝড়ে অসংখ্য প্রাণের বিনষ্টসহ ফসল, ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তার ফলে রাষ্ট্রৈর বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

     ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...