শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তাঁর জীবন অভিজ্ঞতা, দার্শনিকতা ও রসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়,তার আলোচনা করো ।
শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তাঁর জীবন অভিজ্ঞতা, দার্শনিকতা ও রসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়,তার আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11, ইউনিট3)
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্ৰন্থটি একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। শুধু তাই নয়,এটি বৈচিত্র্যময়, পাগলাটে, কৌতুকপূর্ণ এবং একাকী জীবনের অভিজ্ঞতার এক অনবদ্য দলিলও বটে।যে দলিলে কেবলমাত্র ঘটনার বিবরণ নয়, বরং বলা যেতে পারে এটি লেখকের নিজস্ব দার্শনিক ও রসিক দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের মূল্যায়নও।আর সেই মূল্যায়ণে আমরা দেখতে পাই -
'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থের লেখকের মূল অভিজ্ঞতা পাঠক সমাজকে এক ভিন্ন রসবোধে উন্নীত করে।আর সেই রসবোধে শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনের অভিজ্ঞতা গুলিকে নিম্নলিখিত দিকগুলি আলোচনা করা যেতে পারে।
•১) সাহিত্য জীবন ও বন্ধু-স্মৃতিঃআলোচ্য আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে শিবরাম তাঁর শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেন। আর সেই পরিচয় আমরা দেখি যে-
• বন্ধুদের স্মৃতিঃ আত্মজীবনিকার শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনে বন্ধুত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর সেই গুরুত্বে অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু-সহ অন্যান্য সাহিত্যিক বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর স্মৃতিচারণ এই গ্রন্থে বিশেষ স্থান পেয়েছে। যদিও তিনি জীবনের এক গভীর উপলব্ধিতে বলেছেন- "জীবন জুড়ে যারা থাকে তারা কেউ কারো বন্ধু নয়। তারা দু'রকমের। এনিমি আর নন-এনিমি। নন-এনিমিদেরই বন্ধু বলে ধরতে হয়।"
• ২)রসবোধ ও কৌতুকময় জীবনযাপনঃশিবরাম চক্রবর্তীর অভিজ্ঞতা বর্ণনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো অনন্য রসবোধ।যেখানে হাস্যরসের মোড়কে জীবনের ছোট-বড়ো, দুঃখ-কষ্টের ঘটনাগুলিকে তিনি স্ব-অবমাননাকর হাস্যরস এবং শব্দ খেলার মোড়কে পরিবেশন করেছেন।আসলে তাঁর লেখার ভঙ্গি এমনই যে, কঠিন অভিজ্ঞতাও উপভোগ্য হয়ে উঠে।আর সেই উপভোগ্যতায় থাকে-
•ভিন্নরকম স্টাইলঃ শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনযাপন, কথা বলার স্টাইল-সবটাতেই যেন একটা হেঁয়ালিপূর্ণ আমোদ ভাব দেখতে পাওয়া যায়। তাই তাঁর এই পাগলাটে ও খেয়ালি জীবনদর্শনই আত্মজীবনীতে প্রতিফলিত হয়েছে।যে প্রতিফলনে উঠে আসে -
• ৩. জীবনবোধ ও একাকীত্বঃ আমরা জানি যে,হাস্যরসের আড়ালে তাঁর জীবনবোধের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে।যে প্রকাশে আছে-নিঃসঙ্গতা।আপাতদৃষ্টিতে বন্ধু-বান্ধব পরিবেষ্টিত থাকা সত্ত্বেও, শিবরামের জীবনে একটা গভীর শূন্যতা বা একাকীত্ব ছিল।শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন- "মানুষ ছাড়া একা"।
আর এই একাকীত্বই তাঁর অভিজ্ঞতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। সেই অভিজ্ঞতায় আরও একটি দিক আছে,আর সেটি হলো দার্শনিক উপলব্ধি।জীবন এবং ভালো-মন্দের সংজ্ঞা নিয়ে তাঁর নিজস্ব একটি উপলব্ধি ছিল। তিনি বলেছেন- "ভালোর ভালো বলে এই দুনিয়ায় কিছুই তো নাই। মন্দের ভালোই সত্যিকারের ভালো। তাই নিয়েই খুশি থাকতে হয়।"
• ৪. চরম অবহেলা ও বিতৃষ্ণা-হীনতাঃব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে বহু চরম অবহেলা সহ্য করতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর মূল্যবান লেখাগুলিও সেই অবহেলায় নষ্ট হয়েছে। জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি অবহেলার শিকার হলেও, তিনি কখনো জীবন নিয়ে বিতৃষ্ণা প্রকাশ করেননি। তাঁর এই মানসিকতা তাঁর অভিজ্ঞতার অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত। আসলে -
'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' শিবরামের জীবনের সব গোপন রহস্য এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতার ক্ষীরে মাখানো চমচম,যা তাঁকে এক কিংবদন্তি রম্য লেখক হিসেবে নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠা করেছে বলা যায়।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏
Comments
Post a Comment