Skip to main content

উড এর শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি লেখো।

উড এর শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি লেখো (Recommendation of Educational Wood's Despatch) পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।

        স্যার চার্লস উডের ১৮৫৪ সালের 'উডের ডেসপ্যাচ' ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একে ভারতে আধুনিক শিক্ষার মহাসনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। সেখানে আরো বলা হয় যে,প্রথমেই কোম্পানি কি উদ্দেশ্যে ভারতের শিক্ষা বিস্তারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।আর সেখানে-

      ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য জ্ঞান বিস্তার করাই হবে এদেশের শিক্ষার উদ্দেশ্য।এই পাশ্চাত্য জ্ঞান হবে ভারতবাসীর পার্থিব আশীর্বাদ।এই পাশ্চাত্য শিক্ষা শুধু উচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধি বিকাশের সহায়ক হবে তা নয়, এ শিক্ষা ভারতবাসীর নৈতিক চরিত্র গঠনের সহায়ক হবে। আর সেখানে তার সুপারিশ গুলি হলো-

      •শিক্ষার লক্ষ্যঃপাশ্চাত্য জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে ভারতীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।যার মাধ্যমে ভারতীয়দের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি ঘটানো এবং তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত কর্মচারী তৈরি করা।

      •শিক্ষা প্রশাসনঃপ্রতিটি প্রদেশে একটি পৃথক শিক্ষা বিভাগ স্থাপন করা।আর সেখানে ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইন্সট্রাকশন (DPI)-এর অধীনে একটি সুসংগঠিত শিক্ষা প্রশাসন কাঠামো তৈরি করা।

      •শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোঃ প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো তৈরি করা, যেখানে বিভিন্ন স্তর একে অপরের সাথে যুক্ত থাকবে।

       •বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাঃ কোলকাতা,বোম্বাই (মুম্বাই) এবং মাদ্রাজ (চেন্নাই)-এর মতো প্রধান শহরগুলিতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। (যা ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।)

        •বিদ্যালয় স্থাপনঃ প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে সরকারি স্কুল চালু করা।পুরোনো সরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলির তত্ত্বাবধান করা এবং প্রয়োজনমতো নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ করা।

       •শিক্ষার মাধ্যমঃপ্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেশীয় বা স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করা।যেখানে উচ্চ স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা।তবে দেশীয় ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ব্যবহার করা যাবে না।

        •অনুদান ব্যবস্থাঃবেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সরকারি অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা। এই অনুদান প্রদানের নীতিটি ছিল ধর্ম নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে।

        •শিক্ষক প্রশিক্ষণঃবিভিন্ন স্তরের বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Teachers Training Institute) স্থাপন করার সুপারিশ করা হয়।

        • নারীশিক্ষাঃসরকারকে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ও আন্তরিক সমর্থন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।আর সেখানে  যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রেডভিত্তিক মেধাবৃত্তি (Scholarship) প্রদানের ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়।

        •পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,এই সুপারিশগুলি ভারতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিল এবং আজও এর কিছু প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আরও উল্লেখ করা যেতে পারে যে, স্ত্রী শিক্ষার পাশাপাশি মুসলিমরা শিক্ষার অনগ্রসর, তাদের শিক্ষার জন্য ডেসপ্যাচে বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করার নির্দেশ আছে।

    ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...