Skip to main content

১৮১৩ সালের সনদ আইনটি আলোচনা করো। ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এর গুরুত্ব লেখো।

১৮১৩ সালের সনদ আইনটি আলোচনা করো। ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এর গুরুত্ব লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।

             আমরা জানি যে,১৮১৩ সালের সনদ আইন (Charter Act of 1813) ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।আর এই আইনের বলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চার্টারকে পুনর্নবীকরণ করে এবং ভারতের শাসন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে।সেখানে এই আইনের মূল ধারা বা বিধানগুলি হলো-

       ১) কোম্পানির শাসন মেয়াদ বৃদ্ধিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে শাসন করার অধিকার আরও ২০ বছরের জন্য (অর্থাৎ ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত) নবীকরণ করা হয়। শুধু তাই নয়-সেই সাথে বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকারের অবসান হয়। যার ফলে-

         ভারতে বাণিজ্যের উপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার বাতিল করা হয়।তবে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য এবং চা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার বজায় ছিল।যার ফলে অন্যান্য ব্রিটিশ বণিকদের জন্য ভারতীয় বাণিজ্য উন্মুক্ত হয়।

        ২)ধর্ম প্রচারে খ্রীষ্টান মিশনারিদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। যার ফলে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক বা মিশনারিদের ভারতে প্রবেশ এবং ধর্মপ্রচার করার অনুমতি পেয়ে যায়। আবার- 

        ৩)শিক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ বিষয়ে এই আইনের ৪৩ নং ধারায় বলা হয় যে, ব্রিটিশ ভারতের সাহিত্য ও বিজ্ঞানের উন্নতি, এবং দেশীয় পণ্ডিত ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে জ্ঞানের প্রসারের জন্য কোম্পানিকে প্রতি বছর কমপক্ষে এক লক্ষ টাকা অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

    •ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে সনদ আইনের গুরুত্ব•

       ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে ১৮১৩ সালের সনদ আইন  এক নতুন যুগের সূচনা করে। শুধু তাই নয়,এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।আর সেখানে-

        শিক্ষায় সরকারী স্বীকৃতিতে এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো ভারতীয়দের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে। অতঃপর এই শিক্ষা খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ ও অর্থব্যয়ের কথা ঘোষণা করে।আর সেখানে শিক্ষার জন্য বার্ষিক এক লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিধানই এর মূল প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।যার ফলে-

          সনদের এই শিক্ষা আইন প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। তবে শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, এই আইনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি যে, এই অর্থ প্রাচ্য শিক্ষা না পাশ্চাত্য শিক্ষা কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে।যার ফলে ভারতে প্রাচ্যবাদী এবং পাশ্চাত্যবাদী এই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের বীজ রোপিত হয়।আর এই দ্বন্দ্ব পরবর্তী দুই দশক ধরে শিক্ষানীতি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল।তবে -

       মিশনারিদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে দেখা যায় যে,খ্রিস্টান মিশনারিদের ভারতে অবাধ প্রবেশের অনুমতি পাওয়ায় তারা নতুন উদ্যমে তাদের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে। শুধু তাই নয়,তারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, অনাথ আশ্রম এবং নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে।যা ভারতের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারে সহায়তা করে।

         পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ১৮১৩ সালের সনদ আইন ছিল ভারতে শিক্ষাব্যবস্থার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রথম অন্যতম পদক্ষেপ।আর সেই পদক্ষেপের সূত্র ধরে ভারতে আধুনিক শিক্ষাবিস্তারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDORBON" YOUTUBE CHANNEL 🙏 


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...