Skip to main content

প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে হান্টার কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখো।।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে হান্টার কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর)।

           আমরা জানি যে, যে সময়ে(১৮৮২)প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ভীষণ শ্লথ হয়ে আসছিল ঠিক সেই সময়ে হান্টার কমিশন এই প্রাথমিক শিক্ষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেন। কারণ এই প্রাথমিক শিক্ষা হলো জনশিক্ষা বিস্তারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। আর হান্টার কমিশন সেদিন এই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে ৩৬ টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেন। সেই সুপারিশ গুলির মধ্যে অন্যতম হলো-

      ১) প্রাথমিক শিক্ষা হবে জনসাধারণের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা। যেখানে জীবনের পক্ষে যা সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয়, সেই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে শেখানো হবে। আসলে সেদিন হান্টার কমিশন এই প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষারূপেই গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

       ২) জনগণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, প্রসার ইত্যাদির প্রতি রাজ্যকে বিশেষ নজর দিতে হবে। 

       ৩) প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের ওপর সর্বাগ্রে অধিকার দিতে হবে। আর এই অধিকার না দিলে জাতীয় শিক্ষা রচনা করা সম্ভব হবে না।

        ৪) প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের জন্য অনগ্রসর জেলাগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেখানে-

     •প্রশাসন সংক্রান্ত সুপারিশ ঃ হান্টার কমিশন ইংল্যান্ডের শিক্ষানীতির অনুকরণে এদেশের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার ও পরিচালনার দায়িত্ব জেলা বোর্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। শুধু তাই নয়, সেখানে আরো সুপারিশ করা হয় যে-

         এই সকল আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানগুলি নিজে নিজেও এলাকার জন্য একটি শিক্ষা বোর্ড গঠন করবে। এই শিক্ষা বোর্ড নিজ  এলাকার প্রয়োজন বিবেচনা করে নতুন নতুন স্কুল স্থাপন করবে। 

          •বিদ্যালয় পাঠক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ ঃ প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে পাঠ্যসূচি হবে প্রয়োজন ভিত্তিক। আজ সেখানে পাঠক্রমে থাকবে গণিত, হিসাবশিক্ষা, পরিমিতি, প্রকৃতি বিজ্ঞান, শারীরবিজ্ঞান, জমি জরিপ, শিল্পকলা, কৃষি ইত্যাদি। আবার এরই পাশাপাশি-

        দৈহিক স্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম, ড্রিল, খেলাধুলা ইত্যাদি থাকবে। আর এখানে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হবে আঞ্চলিক ভাষায় অর্থাৎ মাতৃভাষাই হবে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার একমাত্র বাহন। এছাড়াও কমিশন সেদিন-

         •অন্যান্য বেশ কিছু সুপারিশ করেন।শিক্ষক শিক্ষণের জন্য প্রত্যেক মহকুমা পরিদর্শকের তত্ত্বাবধানে একটি করে নর্মাল স্কুল বা শিক্ষক- শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে।আবার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে বেতন গ্রহণ করা হবে। তবে কিছু দরিদ্র ছাত্রদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিতে হবে পাশাপাশি স্থানীয় প্রয়োজন অনুসারে স্কুল শুরুর সময় বা ছুটির দিন ধার্য করতে হবে।

    •ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏•

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...