Skip to main content

অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো।

অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো। (উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ,দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার।)

          আমরা ভারতীয় সংবিধান অনুসারে জানি যে,অঙ্গরাজ্যগুলির বিচার ব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছে হাইকোর্ট,যেটি রাজ্যের উচ্চ আদালত।সংবিধানের ২১৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যের জন্য একটি করে হাইকোর্ট থাকার কথা বলা হয়েছে।তবে দুই বা ততোধিক রাজ্যের জন্য একটি সাধারণ হাইকোর্টও থাকতে পারে।আর সেখানে-

            হাইকোর্টের গঠন (Composition)

          ভারতীয় সংবিধানের ২১৬ নং ধারা অনুযায়ী, একজন প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রপতির দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে হাইকোর্ট গঠিত হয়। হাইকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়, কাজের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপতি এই সংখ্যা নির্ধারণ করেন। আর সেখানে-

         হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সাথে পরামর্শ করে।অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগের সময় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সাথেও পরামর্শ করা হয়।এই সকল বিচারপতিদের যোগ্যতা হলো-

   প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।ভারতের বিচারবিভাগীয় পদে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, অথবা কোনো হাইকোর্টে অন্তত ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। হাইকোর্টের বিচারপতিরা ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকতে পারেন। তবে প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে পার্লামেন্টের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতি তাদের অপসারিত করতে পারেন।

           হাইকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী •

হাইকোর্টের কার্যাবলীকে প্রধানত নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়।আর সেই ভাগ গুলি হলো-

১)মূল এলাকাঃকিছু বিশেষ ধরণের মামলা সরাসরি হাইকোর্টে দায়ের করা যায়। একে মূল এলাকা বলে। এর মধ্যে রয়েছে- উইল, বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, কোম্পানি আইন এবং আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলা।সংসদ বা রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ।রাজস্ব সংগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়।মৌলিক অধিকার বলবৎ করার মামলা।

২)লেখ জারি করার ক্ষমতাঃ সংবিধানের ২২৬ নং ধারা অনুযায়ী, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য হাইকোর্ট পাঁচ ধরণের লেখ বা নির্দেশ জারি করতে পারে। যথা- বন্দি প্রত্যক্ষীকরন, পরমাদেশ, প্রতিষেধ, অধিকার পৃচ্ছা এবং উৎপ্রেষণ। হাইকোর্ট মৌলিক অধিকার ছাড়াও অন্যান্য আইনি অধিকার রক্ষায় এই লেখ জারি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

৩)আপিল এলাকাঃহাইকোর্ট মূলত একটি আপিল আদালত। এটি অধস্তন বা নিম্ন আদালতগুলোর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারে।

    •দেওয়ানি আপিল: জেলা জজ বা অধস্তন জজদের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা যায়।

    •ফৌজদারি আপিল: দায়রা জজ (Sessions Judge) বা অতিরিক্ত দায়রা জজ যদি কাউকে ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেন, তবে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা যায়।

৪)তত্ত্বাবধানের ক্ষমতাঃসংবিধানের ২২৭ নং ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট তার সীমানার মধ্যে অবস্থিত সমস্ত নিম্ন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলির (সামরিক আদালত ছাড়া) ওপর তত্ত্বাবধান করতে পারে। আদালতগুলির কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ এবং নথিপত্র সংরক্ষণের নিয়মাবলী হাইকোর্টই তৈরি করে দেয়।

৫)অভিলেখ আদালতঃ সংবিধানের ২১৫ নং ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট একটি 'অভিলেখ আদালত' বা 'কোর্ট অফ রেকর্ড' হিসেবে কাজ করে। এর অর্থ হলো-হাইকোর্টের সমস্ত রায় এবং নথিপত্র ভবিষ্যৎ নজির (Precedent) হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।আদালত অবমাননার জন্য হাইকোর্ট যে কাউকে শাস্তি দিতে পারে।

৬)অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণঃরাজ্যের জেলা আদালত ও অন্যান্য অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং ছুটির বিষয়গুলি হাইকোর্ট নিয়ন্ত্রণ করে।

           পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,ভারতের বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট রাজ্যের সর্বোচ্চ আইনি অভিভাবক হিসেবে কাজ করে থাকে।এই হাইকোর্ট একদিকে যেমন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে, অন্যদিকে সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং রাজ্যের আইনি শাসন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDARBAN" Youtube channel 🙏 


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...