বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো (বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাস)।(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার-বাংলা)।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১–১৯৫১) ছিলেন ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার পুরোধা এবং 'নব্যবঙ্গীয় চিত্ররীতি' বা 'বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট'-এর জনক। শুধু তাই নয়,তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় চিত্রকলা ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্তি পেয়ে নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ফিরে পায়।আর সেখানে-
•নতুন শিল্পরীতির প্রবর্তন হয় বাংলার চিত্রকলার জগতে। যেখানে পশ্চিমী রীতির অন্ধ অনুকরণ থেকে ভারতীয় শিল্পকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ। ব্রিটিশ শিল্প প্রশাসক ও শিল্পতাত্ত্বিক ই. বি. হ্যাভেল-এর সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় তিনি মুঘল ও রাজপুত মিনিয়েচার এবং অজন্তা-এলোরার ফ্রেস্কোর ঐতিহ্যকে আধুনিক আঙ্গিকে মিশিয়ে এক নতুন শিল্পরীতির জন্ম দেন, যা পরবর্তীকালে 'বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট' নামে পরিচিত হয়। অতঃপর-
• বাংলায় স্বদেশী ভাবনার প্রকাশ ঘটে।স্বদেশী আন্দোলনের সময় তিনি শিল্পকে জাতীয়তাবোধের বাহন হিসেবে ব্যবহার করেন।যেখানে 'ভারতমাতা' চিত্র ছিল অন্যতম।১৯০৫ সালে আঁকা তাঁর বিখ্যাত 'বঙ্গমাতা' চিত্রটি পরে 'ভারতমাতা' নামে পরিচিতি লাভ করে।আর এই চিত্রটি একাধারে জাতীয় প্রতীক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে ভারতীয়দের মনে গভীর দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলে।সেখানে-
•বাংলার চিত্রকলা ছিল একেবারেই ঐতিহ্যভিত্তিক বিষয়। আর সেখানে তিনি তাঁর ছবিতে পৌরাণিক বিষয় যেমন-কৃষ্ণলীলা সিরিজ, কচ ও দেবযানীর কাহিনী পাশাপাশি ঐতিহাসিক বিষয় যেমন-শাহজাহানের মৃত্যু এবং ভারতীয় জীবন-ভিত্তিক বিষয়কে প্রাধান্য দেন।আর তারফলে-
•নতুন আঙ্গিক ও পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়। যেখানে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঐতিহ্যবাহী জলরঙের 'ওয়াশ' পদ্ধতিকে নতুন আঙ্গিকে প্রয়োগ করে খ্যাতি অর্জন করেন।যে পদ্ধতিতে রং হালকা করে বারংবার প্রয়োগের মাধ্যমে ছবিতে এক স্বপ্নময় ও পেলব ভাব আনা যেত।এছাড়াঊ তিনি জাপানি শিল্পীদের সান্নিধ্যে এসে জাপানি ওয়াশ রীতিরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। অতঃপর-
• শিষ্যগোষ্ঠী তৈরি ও প্রভাব চিত্রকলা জগতে দেখা যায়।আর সেখানে তিনি কেবল শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক।আর তাঁর হাতেই নন্দলাল বসু, অসিতকুমার হালদার, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদার-এর মতো বহু কৃতী শিল্পী তৈরি হন। যাঁরা পরবর্তীকালে 'বেঙ্গল স্কুল' এবং ভারতীয় শিল্পের ধারাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেন।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃজনী ক্ষমতা ও গুরুদায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ভারতীয় চিত্রকলাকে এক নতুন আত্মপরিচয় দিয়েছিলেন।তাই তাঁকে আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলার 'জনক' বলা হয়।শুধু তাই নয়, তিনি চিত্রকলার বাইরেও প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে অবদান রাখেন। আসলে তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং শিশু শিল্পী।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏
Comments
Post a Comment