রাধাকৃষ্ণণ কমিশন নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যগুলি লেখো।এর কয়েকটি সীমাবদ্ধতা লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো রাধাকৃষ্ণণ কমিশন বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন।আর এই কমিশনটি গঠিত হয়েছিল ১৯৪৮-৪৯ খ্রীষ্টাব্দে।সেই সময়ে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের সভাপতিত্বে এই কমিশন উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে যে সুপারিশগুলি করেছিল, তা ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর এক্ষণে ঐ কমিশনের নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যগুলি নিম্নে বিশেষ সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো-
•রাধাকৃষ্ণণ নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ (Aims of Higher Education)।•
এক্ষণে বলে রাখা ভালো যে,রাধাকৃষ্ণণ কমিশন উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন নয়, বরং একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন গড়ে তোলার লক্ষ্যের ওপর জোর দিয়েছিল।আর সেই লক্ষ্যগুলি হলো-
১)নেতৃত্ব গঠনঃ রাধাকৃষ্ণণ কমিশনের মতে, স্বাধীন ভারতের রাজনীতি, প্রশাসন, শিল্প ও বাণিজ্যে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য দক্ষ ও যোগ্য নেতার প্রয়োজন।আর সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে সেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করা।
২)গণতান্ত্রিক মূল্যবোধঃ শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মতো গণতান্ত্রিক গুণাবলি জাগিয়ে তুলতে হবে।আর এই মূল্যবোধ জাগ্রত হলে তারা অবশ্যই সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
৩) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যঃ ভারতের হাজার বছরের পুরোনো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে।আর সেগুলিকে রক্ষা করা এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া উচ্চ শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
৩) জ্ঞান ও প্রজ্ঞারঃ আমরা জানি যে,শিক্ষা মানে কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়।আর কমিশনের মতে, শিক্ষার লক্ষ্য হলো 'জ্ঞান' (Knowledge) এবং 'প্রজ্ঞা' (Wisdom)-এর সমন্বয় ঘটানো, যাতে শিক্ষার্থীরা জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে।
৪) বৃত্তিমুখী ও পেশাগত দক্ষতাঃ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, আইন, চিকিৎসা ও কারিগরি বিদ্যার মতো পেশাগত শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হলো আরেকটি অন্যতম লক্ষ্য। তবে সেখানে-
•রাধাকৃষ্ণণ কমিশনের চারটি সীমাবদ্ধতা•
১) নারী শিক্ষা সম্পর্কে রক্ষণশীলতাঃ কমিশন নারী শিক্ষার প্রসারের কথা বললেও, নারীদের পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল মনোভাব দেখিয়েছিল। তারা নারীদের জন্য প্রধানত 'গৃহস্থালি পরিচালনা' বা সুগৃহিণী হওয়ার উপযোগী শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল, যা আধুনিক সমতার ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
২) ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে বিতর্কঃ কমিশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও, আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষার নামে ধর্মীয় শিক্ষার সুপারিশ করেছিল। বহু ধর্ম ও মতের দেশ ভারতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি বাস্তবায়ন করা ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত।
৩) গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবাস্তবতাঃ কমিশন 'গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়' (Rural University) গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা ছিল অত্যন্ত আদর্শবাদী। কিন্তু তৎকালীন ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামোতে এই পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপদান করা প্রায় অসম্ভব ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা সেভাবে সফল হয়নি।
৪) ভাষার মাধ্যমে জটিলতাঃ উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজিকে সরিয়ে আঞ্চলিক ভাষা বা হিন্দিকে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত পাঠ্যবইয়ের অভাব এবং হঠাৎ করে মাধ্যম পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, তা কমিশন সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDARBAN" Youtube channel 🙏
Comments
Post a Comment