Skip to main content

ক্রেতা আদালত

দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান – "ক্রেতা আদালত" অধ্যায় থেকে পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান)।

              

•ক্রেতা আদালত কী বা কাকে বলে?-

        আমরা জানি যে,ক্রেতা আদালত (Consumer Court) বা কনজিউমার ফোরাম হলো একটি বিশেষ ধরণের বিচার ব্যবস্থা, যা তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে-

           •কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য কেনেন বা পরিষেবা (Service) নেন এবং তাতে ঠকে যান বা প্রতারিত হন, তবে তিনি এই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। ১৯৮৬ সালের ক্রেতা সুরক্ষা আইন (যা ২০১৯ সালে সংশোধন করা হয়েছে) অনুযায়ী এই আদালত গঠন করা হয়েছে।

        ক্রেতা আদালতের প্রধান কাজ কী?

       •ক্রেতা বা উপভোক্তারা যাতে সঠিক পণ্য এবং পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করাই এই আদালতের লক্ষ্য। সাধারণ আদালতের মতো এখানে দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া থাকে না। মূলত নিম্নলিখিত কারণে ক্রেতা আদালতে অভিযোগ জানানো যায়।আর সেখানে-

   • যদি কেনা জিনিসে কোনো খুঁত থাকে বা তা খারাপ হয়। কোনো সেবামূলক কাজ (যেমন- ইলেকট্রিক বিল, ব্যাঙ্কিং, বিমা, কুরিয়ার ইত্যাদি) ঠিকমতো না পেলে। এম.আর.পি (MRP)-র চেয়ে বেশি দাম নিলে। ভুল বা মিথ্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে।পণ্যের পরিমাণে কারচুপি করলে ক্রেতা আদালতে দারস্থ হওয়ার অধিকার আছে।

                  ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর 

১. ক্রেতা কে? ক্রেতার অধিকার দুটি লেখো।

ক্রেতা হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের প্রয়োজন মেটাতে কোনও পণ্য ক্রয় করেন বা সেবা গ্রহণ করেন।আর সেখানে ক্রেতার দুটি অধিকার হলো-

         •সঠিক দামের অধিকার।•নিরাপদ পণ্য পাওয়ার অধিকার।

২)পণ্যের ত্রুটি বলতে কী বোঝায়?

পণ্য মানসম্মত না হলে, ভাঙা/অপূর্ণাঙ্গ হলে, ব্যবহারযোগ্য না হলে বা প্রতিশ্রুত মান না পেলে তাকে পণ্যের ত্রুটি বলা হয়।

৩)জেলা ভোক্তা আদালতের গঠন কেমন?

জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে থাকে-ক) একজন সভাপতি (সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারক) খ) দুই অথবা তার বেশি সদস্য গ) একজন নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক

               ৩ নম্বরের প্রশ্নোত্তর

১)ক্রেতার অধিকারসমূহ আলোচনা করো।

ক্রেতার অধিকার হলো-

ক)তথ্য জানার অধিকার – পণ্যের দাম, মান, মেয়াদ ইত্যাদি জানার সুযোগ।

খ)নিরাপত্তার অধিকার – ক্ষতিকর বা নিম্নমানের পণ্য থেকে সুরক্ষা।

গ)পছন্দের অধিকার – বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে পছন্দমতো কেনার সুযোগ।

ঘ)শুনানি পাওয়ার অধিকার – অভিযোগ জানালে তার ন্যায্য শুনানি।

ঙ)ক্ষতিপূরণের অধিকার – প্রতারণা বা ত্রুটির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার।

চ)ভোক্তা শিক্ষার অধিকার – সচেতন হওয়ার অধিকার।


২)তিন স্তরবিশিষ্ট ভোক্তা আদালত ব্যবস্থার কাঠামো লেখো।

ক)জেলা কমিশন – ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের মামলা গ্রহণ করে।

খ)রাজ্য কমিশন – জেলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনা ও ৫০ লাখ–২ কোটি পর্যন্ত মামলা।

গ)জাতীয় কমিশন – সর্বোচ্চ স্তর; রাজ্যের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনে ও ২ কোটির ওপরে মামলা বিচার করে।

৩) ভোক্তা আদালতে অভিযোগ জানানোর ধাপগুলি লেখো।

•অভিযোগপত্র লেখা।•প্রয়োজনীয় নথি (বিল, প্যাকেট, ছবি) সংযুক্ত করা।•সঠিক আদালত নির্ধারণ।•ফি জমা দিয়ে অভিযোগ দাখিল।•নোটিস পাঠানো ও শুনানি।•রায় ঘোষণা ও ক্ষতিপূর


                     ৫ নম্বরের প্রশ্নোত্তর

১)ভারতের তিন স্তরের ক্রেতা আদালত ব্যবস্থা আলোচনা করো।

ভারতে ভোক্তা সুরক্ষার জন্য তিন স্তরের আদালত ব্যবস্থা কার্যকর—

(ক) জেলা কমিশন:

সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্থাপিত।

৫০ লাখ টাকার নিচের মামলার বিচার।

সভাপতি ও কমপক্ষে দুই সদস্য দ্বারা পরিচালিত।

(খ) রাজ্য কমিশন:

জেলা কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনা।

৫০ লাখ–২ কোটি টাকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

সভাপতি সাধারণত উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।


(গ) জাতীয় কমিশন:সর্বোচ্চ ভোক্তা আদালত।২ কোটির ওপরে অভিযোগ নিষ্পত্তি।রাজ্য কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল শোনে।এটি একটি ভোক্তা সুরক্ষার সর্বোচ্চ বিচার মঞ্চ।

২. ভোক্তা সুরক্ষা আইন ২০১৯-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ করো।

ভোক্তার সংজ্ঞা বিস্তৃত করা।ই–কমার্স ভোক্তাদের সুরক্ষা।কেন্দ্রীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (CCPA) গঠন।অন্যায্য ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা।দ্রুত বিচারব্যবস্থা ও অনলাইন অভিযোগ।

৩. ভোক্তা আদালতের প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।

প্রয়োজনীয়তা: ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, প্রতারণা বন্ধ, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত।কার্যকারিতা: দ্রুত বিচার, কম খরচে অভিযোগ, অভিযোগ নিষ্পত্তি সহজ। তবে এখানে মামলা দেরি হওয়া, সচেতনতার অভাব, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকা।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...