•গান্ধীজী থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর•পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর
১)•গান্ধীজী বিকল্প আধুনিকতাকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
উত্তরঃগান্ধীজীর 'বিকল্প আধুনিকতা' হলো পশ্চিমী ভোগবাদী ও যন্ত্রনির্ভর সভ্যতার বিপরীতে একটি নীতিধর্মী ও মানবকেন্দ্রিক জীবনদর্শন। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো-নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা এবঃ বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বনির্ভরতা।
২)• গান্ধীজীর সর্বোদয় কী?
উত্তরঃসর্বোদয় শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'সকলের উদয়' বা 'সকলের কল্যাণ'। জন রাস্কিনের 'আনটু দিস লাস্ট' (Unto This Last) গ্রন্থটি পাঠ করে গান্ধীজী এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। এর মূল বৈশিষ্ট্য-অন্তিম ব্যক্তির কল্যাণ যা পিছিয়ে পড়া মানুষটির উন্নতির মাধ্যমেই সমগ্র সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব। অপরদিকে-শ্রেণিহীন সমাজ গঠন যা এমন এক সমাজব্যবস্থার কথা বলে যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও সুযোগ পাবে এবং যার ভিত্তি হবে সত্য ও অহিংসা।
৩)। গান্ধীজীর নারী চেতনার মূল ভিত্তি কী ছিল?
উত্তরঃ গান্ধীজীর নারী চেতনার মূল ভিত্তি ছিল নারীদের 'আত্মিক শক্তি' এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব। তাঁর মতে- যে নারীরা ধৈর্য ও সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক, তাই তাঁরা পুরুষদের তুলনায় অহিংস সংগ্রামে বেশি পারদর্শী। আবার- তিনি নারীদের কেবল গৃহিণী হিসেবে নয়, বরং সমাজ সংস্কারক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, নারী শক্তি জাগ্রত না হলে ভারতের পূর্ণ স্বরাজ অর্জন সম্ভব নয়।
৪) পণপ্রথা সম্পর্কে গান্ধীজীর মতামত কী?
উত্তরঃ মহাত্মা গান্ধী পণপ্রথাকে একটি 'সামাজিক পাপ' এবং 'অমানবিক ব্যাধি' হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁর মতে-এই প্রথা নারীকে একটি ‘পণ্য’ বা ‘বিক্রয়যোগ্য সামগ্রী’তে পরিণত করে এবং তাঁর আত্মমর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে।তিনি বলেন শিক্ষিত যুবকদের পণপ্রথা বিরোধী শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আসলে কেবল আইনের মাধ্যমে নয়, বরং অসবর্ণ বিবাহ এবং নৈতিক সচেতনতার মাধ্যমেই এই প্রথা নির্মূল করা সম্ভব।
৫)সত্যাগ্রহ ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের মৌলিক পার্থক্যগুলি চিহ্নিত করো।
•সত্যাগ্রহে অহিংসা হলো একটি পরম ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাস; এখানে শত্রুর প্রতি কোনো ঘৃণা থাকে না। অন্যদিকে-
নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধে অহিংসাকে কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সুযোগ পেলে বলপ্রয়োগ বা হিংসার আশ্রয় নেওয়ার পথ খোলা থাকে।
•সত্যাগ্রহ হলো সবল বা বীরের অস্ত্র, যেখানে সত্যাগ্রহী নিজের আত্মিক শক্তির জোরে কষ্ট সহ্য করে শত্রুর হৃদয় পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু-
নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধকে সাধারণত দুর্বলের অস্ত্র বলা হয়, যেখানে সরাসরি লড়াই করার ক্ষমতা না থাকায় অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়।
৬)কোন গ্রন্থে গান্ধীজি তার স্বরাজের ধারণা বিবৃত করেছেন?
উত্তরঃমহাত্মা গান্ধী তাঁর স্বরাজের ধারণাটি বিস্তারিতভাবে বিবৃত করেছেন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ 'হিন্দ স্বরাজ'-এ।
৭)গান্ধী কোথা থেকে কোন সময় তার অস্পৃশ্যতাবিরোধী সর্বভারতীয় প্রচার শুরু করেন?
উত্তরঃ মহাত্মা গান্ধী তাঁর অস্পৃশ্যতাবিরোধী সর্বভারতীয় প্রচার বা 'হরিজন পদযাত্রা' শুরু করেছিলেন ১৯৩৩ সালের ৭ নভেম্বর।এই অভিযানের শুরু হয়েছিল মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা থেকে।
৮)নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে গান্ধীবাদী মত কী?
উত্তরঃ নারীরা অবলা নন, বরং তাঁরা অহিংসা ও ত্যাগের মূর্ত প্রতীক, যা সমাজের আমূল পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য।
৯)পারিবারিক সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের ভাগ নিয়ে গান্ধীর ধারণা কি ছিল?
উত্তরঃ তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যম হিসেবে কন্যাসন্তানের সম্পত্তির অধিকারকে সমর্থন করেছিলেন।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.
Comments
Post a Comment