Skip to main content

ভূমি নীতিশাস্ত্র এবং প্রাণকেন্দ্রিকতা বাদের আলোচনা ও তাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ভূমির নীতিশাস্ত্র (Land Ethics) এবং প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদ (Biocentrism)-এর আলোচনা ও তাদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, দর্শন মাইনর)

          •ভূমির নীতিশাস্ত্র (Land Ethics)•

           আমরা জানি যে,অল্ডো লিউপোল্ড ভূমি নীতিশাস্ত্রের প্রধান প্রবক্তা। আসলে লিওপোল্ডের মতে, নৈতিকতার পরিধি কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে মাটি, জল, উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের নিয়ে গঠিত সমগ্র 'ভূমি' বা বাস্তুতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।আর সেখানে -

     সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গিঃ সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে একক কোনো প্রাণীর চেয়ে সমগ্র 'জৈব সম্প্রদায়' এর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।আর সেখানে লিওপোল্ড বলেন-

 "একটি কাজ তখনই সঠিক যখন তা জৈব সম্প্রদায়ের অখণ্ডতা, স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্য রক্ষা করে।"

   আর এখানে মানুষের ভূমিকা লক্ষ্যণীয়।আসলে মানুষ প্রকৃতির প্রভু নয়, বরং সে প্রাকৃতিক সম্প্রদায়ের একজন সাধারণ সদস্য মাত্র।

          •প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদ (Biocentrism)•

প্রাণকেন্দ্রিকতাবাদের প্রধান প্রবক্তা আলবার্ট সোয়াইৎজার এবং পল টেলর।আলবার্ট সোয়াইৎজার এবং পর টেলর হলেন প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদেরপ্রধান প্রবক্তা।আর এই মতবাদ অনুযায়ী, প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীর (সে মানুষ হোক বা ক্ষুদ্র পতঙ্গ বা গাছ) একটি নিজস্ব অন্তর্নিহিত মূল্য আছে।আর সেকারণেই-

        জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা অতি প্রয়োজন।সোয়াইৎজার একে 'জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা' বলেছেন। অর্থাৎ, যা কিছু জীবিত, তারই বেঁচে থাকার অধিকার আছে।তাই প্রতিটি একক জীবের জীবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আর সেখানে-

'প্রাণ কেন্দ্রিকতাবাদ (Biocentrism) হলো এমন একটি নৈতিক ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি যা বিশ্বাস করে যে পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত প্রাণীর সমান মূল্য রয়েছে। এই মতবাদ অনুযায়ী, মানুষ প্রকৃতির অধিপতি নয়, বরং প্রকৃতির একটি অংশ মাত্র।

   ভূমির নীতিশাস্ত্র ও প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদের পার্থক্য•

১)ভূমির নীতিশাস্ত্র একটি সমষ্টিগত (Holistic) ধারণা। তাই এখানে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভালো মন্দের ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু -

      ১)  প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদ ব্যক্তিনির্ভর (Individualistic)। কিন্তু-

      প্রাণকেন্দ্রিকতাবাদে প্রতিটি জীবের স্বতন্ত্র প্রাণের ওপর জোর দেওয়া হয়। 

     ২)ভূমি নীতিশাস্ত্রে মাটি, জল, পাহাড়ের মতো অজৈব উপাদানগুলিকেও নৈতিক মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু-             প্রাণকেন্দ্রিকতাবাদ মূলত কেবল জীবন্ত সত্তার (Living beings) ওপর আলোকপাত করে। |

    ৩)ভূমি নীতিশাস্ত্রে কোনো একটি প্রাণীর জীবনের চেয়ে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু -

         প্রাণকেন্দ্রিকতাবাদে প্রতিটি জীবনের নিজস্ব মূল্য আছে, তাই একটি জীবন রক্ষা করাও পরম কর্তব্য। |

     ৪)ভূমি নীতিশাস্ত্রে বলা হয় যে ,হরিণের সংখ্যা বেড়ে গেলে বনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় হরিণ শিকারকে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু -

        প্রাণকেন্দ্রিকতাবাদে বলা হয় কোনো কারণ ছাড়াই একটি হরিণ বা গাছের প্রাণ নষ্ট করাকে সমর্থন করে না। 

     ৫) ভূমি নীতিশাস্ত্রের প্রধান প্রবক্তা অল্ডো লিওপোল্ড। অপরপক্ষে-

       প্রাণকেন্দ্রিকতাবাদ এর প্রধান প্রবক্তা আলবার্ট সোয়াইৎজার এবং পল টেলর।

        পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদ প্রতিটি প্রাণীর জীবনকে পবিত্র মনে করে একটি আদর্শবাদী অবস্থান নেয়, অন্যদিকে ভূমির নীতিশাস্ত্র প্রকৃতির সামগ্রিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে উভয় মতবাদই একে অপরের পরিপূরক।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir,Hingalganj, North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...