Skip to main content

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র কাকে বলে? পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের গুরুত্ব আলোচনা করো।

 

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র (Environmental Ethics) কাকে বলে? পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের গুরুত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস)

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রঃ নীতিবিদ্যার যে শাখায় মানুষের সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশের নৈতিক সম্পর্ক এবং পরিবেশের অন্তর্গত বিভিন্ন উপাদানের (যেমন- প্রাণী, উদ্ভিদ, নদ-নদী, পাহাড়) নৈতিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র বলে। আসলে -

         প্রথাগত নীতিবিদ্যা সাধারণত মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেয়, কিন্তু পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র মানুষের নৈতিক সীমানাকে প্রসারিত করে সমগ্র প্রকৃতির ওপর দায়বদ্ধতা স্বীকার করে।আর সেখানে পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-

    •পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র মানুষের পাশাপাশি অ-মানব (non-human) জগতের অধিকারের কথা বলে।

    •প্রকৃতির নিজস্ব বা অভ্যন্তরীণ মূল্য (Intrinsic Value) আছে কি না, তা বিচার করে।

    •ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার নৈতিক বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করে।

            •পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের গুরুত্ব•

বর্তমান বিশ্বের পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে এই শাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।আর সেখানে পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের প্রধান গুরুত্বগুলি হলো-

       ১)দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনঃ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রকৃতির মালিক বা অধিপতি মনে করে এসেছে (নৃ-কেন্দ্রিকতাবাদ)। পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র এই ভুল ধারণা ভেঙে দেয় এবং শেখায় যে মানুষ প্রকৃতির অংশ, মালিক নয়। এটি আমাদের 'পরিবেশ-কেন্দ্রিক' দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

     ২)জীববৈচিত্র্য রক্ষাঃ পৃথিবীর প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব গুরুত্ব আছে। পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র শেখায় যে কেবল মানুষের উপকারের জন্য নয়, বরং প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষার জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

      ৩)ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতাঃ পৃথিবীর সম্পদ ফুরিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংকটে পড়বে। পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র আমাদের সতর্ক করে যে, আমরা যেন এমনভাবে সম্পদ ব্যবহার না করি যা পরবর্তী প্রজন্মের জীবনকে বিপন্ন করে। এটি 'স্থিতিশীল উন্নয়ন' বা Sustainable Development-এর নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে।

       ৪)জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণ রোধঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন বা বায়ু দূষণের মতো সমস্যাগুলি মূলত মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ফল। এই নীতিশাস্ত্র আমাদের পরিবেশ দূষণকে একটি 'পাপ' বা অনৈতিক কাজ হিসেবে দেখতে শেখায়, যা মানুষকে আইন মেনে চলার চেয়েও মানসিকভাবে সচেতন করে তোলে।

       ৫) অভ্যন্তরীণ মূল্যের স্বীকৃতিঃ সাধারণত আমরা বন বা নদীকে তখনই গুরুত্ব দিই যখন তা থেকে আমরা কাঠ বা মাছ পাই। কিন্তু পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র দাবি করে যে, মানুষের কোনো প্রয়োজন না থাকলেও একটি বনের নিজস্ব মূল্য আছে। এই বোধ বন ও প্রকৃতি নিধন রোধে সহায়ক।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...