Skip to main content

আবর্তন ও বিবর্তন কাকে বলে? উদাহরণসহ আবর্তন ও বিবর্তনের নিয়মগুলি আলোচনা করো।

আবর্তন (Conversion) ও বিবর্তন (Obversion)। নিচে এদের নিয়ম ও উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস)।

১)আবর্তনঃযে অমাধ্যম অনুমানে গুণের পরিবর্তন না করে উদ্দেশ্য ও বিধেয়-র স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়, তাকে আবর্তন বলে।

                •আবর্তনের নিয়মাবলী•

 •আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তের বিধেয় হবে।

 •আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হবে।

 •আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ এক থাকবে (সদর্থক হলে সদর্থক, নঞর্থক হলে নঞর্থক)।

 •যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয়, সেই পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না।

              •বিভিন্ন বচনের আবর্তন•

 •A বচনের আবর্তন করে পাই I বচন (একে সীমিত আবর্তন বলে)

   আশ্রয়বাক্য (A): সকল মানুষ হয় মরণশীল।

   সিদ্ধান্ত (I): কোনো কোনো মরণশীল জীব হয় মানুষ।

 •E বচনের আবর্তন করে পাই E  বচন (সরল আবর্তন)

   আশ্রয়বাক্য (E): কোনো মানুষ নয় অমর।

   সিদ্ধান্ত (E): কোনো অমর জীব নয় মানুষ।

 •I বচনের আবর্তন করে পাই I বচন (সরল আবর্তন)

   আশ্রয়বাক্য (I): কোনো কোনো ছাত্র হয় মেধাবী।

   সিদ্ধান্ত (I): কোনো কোনো মেধাবী ব্যক্তি হয় ছাত্র।

 •O বচনের আবর্তন: সম্ভব নয় (কারণ ব্যাপ্তি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘিত হয়)।

২)বিবর্তনঃ যে অমাধ্যম অনুমানে গুণের পরিবর্তন করে এবং বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় করে নতুন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়, তাকে বিবর্তন বলে।

             •বিবর্তনের নিয়মাবলী•

 •আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য এক হবে।

 •আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তের বিধেয় হবে।

 •আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হবে (সদর্থক থাকলে নঞর্থক হবে)।

 •আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ এক থাকবে।

                •বিভিন্ন বচনের বিবর্তন•

 •A বচনের বিবর্তন করে পাই E বচন 

   আশ্রয়বাক্য (A): সকল মানুষ হয় মরণশীল।

   সিদ্ধান্ত (E): কোনো মানুষ নয় অ-মরণশীল।

  •E বচনের বিবর্তন করে পাই A বচন।

   আশ্রয়বাক্য (E): কোনো মানুষ নয় পূর্ণ।

   সিদ্ধান্ত (A): সকল মানুষ হয় অ-পূর্ণ।

 •I বচনের বিবর্তন করে পাই O বচন।

   আশ্রয়বাক্য (I): কোনো কোনো ফুল হয় লাল।

   সিদ্ধান্ত (O): কোনো কোনো ফুল নয় অ-লাল।

 O বচনের বিবর্তন করে পাই I বচন।

   আশ্রয়বাক্য (O): কোনো কোনো মানুষ নয় সৎ।

   সিদ্ধান্ত (I): কোনো কোনো মানুষ হয় অ-সৎ।

              •আবর্তন ও বিবর্তনের মূল পার্থক্য•

১) আবর্তনের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও বিধেয় সিদ্ধান্তে স্থান পরিবর্তন করে। কিন্তু-

       বিবর্তনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য একই থাকে, বিধেয় বিরুদ্ধ পদ হয়। |

২) আবর্তনের ক্ষেত্রে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে গুণের কোনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু-

      বিবর্তনের ক্ষেত্রে আশরয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে গুণের পরিবর্তন হয়। |

A থেকে I, E থেকে E, I থেকে I হয়। | A থেকে E, E থেকে A, I থেকে O, O থেকে I হয়। 

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDARBAN" Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...