পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নিখিল সরকার (ছদ্মনাম: শ্রীপান্থ) রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক শ্রীপান্থ আধুনিক যান্ত্রিক যুগে কলমের বিবর্তন এবং তার ফলে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো দিনের আবেগ ও ঐতিহ্যের কথা বর্ণনা করেছেন। প্রবন্ধকার নিজে একজন কলম-প্রেমিক এবং পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় কলমের প্রতি তাঁর টান প্রবন্ধটির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে।আর সেই প্রবন্ধে আমরা দেখি-
কলমের প্রাচীন ইতিহাস ও কালি তৈরির পদ্ধতি। প্রবন্ধকার তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন যে, একসময় বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করা হতো। কালির অভাব দূর করতে গ্রাম্য পদ্ধতিতে কালি তৈরি করা হতো। বাড়িতে লোহার কড়াইয়ে তিল, ত্রিফলা ও শিমুল ছাল পুড়িয়ে বা আতপ চাল পুড়িয়ে কালি তৈরি হতো। এই কালি তৈরির বিষয়টি ছিল এক উৎসবের মতো। তবে অতঃপর আসে-
ফাউন্টেন পেনের বিপ্লব।আসলে কলমের বিবর্তনের ইতিহাসে লুই এডসন ওয়াটারম্যান-এর হাত ধরে ফাউন্টেন পেনের (ঝরনা কলম) আবিষ্কার এক বৈপ্লবিক ঘটনা। লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-প্রত্যেকের কলম ব্যবহারের বিচিত্র শখের কথা উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ এই কলমের নাম দিয়েছিলেন 'ঝরনা কলম'।
বলপেন বা ডট পেনের আধিপত্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।আধুনিক যুগে বলপেন বা ডট পেনের সস্তা ও সহজলভ্য ব্যবহারের ফলে ঝরনা কলম বা নিব কলম তার কৌলীন্য হারিয়েছে। লেখক একে আক্ষেপের সুরে 'খুনি' বলেছেন, কারণ এই সস্তা কলম ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলীদের পেশাকে বিপন্ন করেছে এবং হাতে লেখার নান্দনিকতাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আর সে কারণেই-
যান্ত্রিক সভ্যতা ও কম্পিউটারের আক্রমণ শুরু হয়।বর্তমান যুগ কম্পিউটারের। লেখক লক্ষ্য করেছেন যে, আগেকার দিনে লেখকদের ডেস্কে সাজানো কলম দানিতে নানা রকমের কলম থাকত, কিন্তু আজ সেখানে কম্পিউটারের দাপট। এমনকি আধুনিক অনেক লেখকও এখন আর হাতে লেখেন না, সরাসরি কী-বোর্ডে টাইপ করেন। লেখক আশঙ্কা করেছেন যে, এভাবে হয়তো একদিন হাতের লেখা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
কলমের ট্র্যাজেডি মর্মান্তিক ঘটনা।প্রবন্ধের শেষে লেখক একটি মর্মান্তিক তথ্য দিয়েছেন। লেখক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছিল নিজেরই পকেটে থাকা অসাবধানতা বশত ফুটে যাওয়া কলমের নিবের আঘাতে। এই তথ্যটি কলমের প্রতি লেখকের যেমন শ্রদ্ধা, তেমনি এক অদ্ভুত বিষাদকেও প্রকাশ করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' কেবল একটি যন্ত্রের বিবর্তনের ইতিহাস নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার।যান্ত্রিকতা কীভাবে আমাদের জীবন থেকে ব্যক্তিগত ছোঁয়া এবং শৈল্পিক সৌন্দর্য কেড়ে নিচ্ছে, লেখক শ্রীপান্থ অত্যন্ত নিপুণভাবে তা তুলে ধরেছেন।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.
Comments
Post a Comment