Skip to main content

বাংলার উৎসব/বাংলার ব্রত/বারো মাসে তেরো পার্বণ।

বাংলার উৎসব/বাংলার ব্রত/বারো মাসে তেরো পার্বণ প্রবন্ধ রচনা (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)

         ভূমিকা:"বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ"-এই প্রবাদটি কেবল লোককথা নয়, এটি বাঙালির রক্তে মিশে থাকা এক পরম সত্য। আসলে উৎসব মানেই বাঙালির কাছে মিলন, আনন্দ এবং একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি। নদীমাতৃক সুজলা-সুফলা এই বাংলায় উৎসবের ধারাটি ধর্ম, বর্ণ এবং শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে এক সর্বজনীন রূপ ধারণ করেছে।

        উৎসবের বৈচিত্র্য ও শ্রেণিবিভাগঃ বাংলার উৎসবকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: ধর্মীয় উৎসব, ঋতু উৎসব, সামাজিক উৎসব এবং জাতীয় উৎসব। এই বৈচিত্র্যই বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।

        প্রধান ধর্মীয় উৎসবঃ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো শারদীয়া দুর্গাপূজা। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে মানুষ এই উৎসবে মেতে ওঠে। ঢাকের আওয়াজ আর শিউলি ফুলের গন্ধে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা কিংবা মহরম—সবই বাংলার বুকে সমান মর্যাদায় পালিত হয়।

        ঋতু ও কৃষিভিত্তিক উৎসবঃ বাংলার উৎসবের মূলে রয়েছে প্রকৃতি। বসন্তের আগমনে পালিত হয় দোলযাত্রা বা বসন্তোৎসব। নবান্ন হলো বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রধান উৎসব। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে মেতে ওঠে গ্রামবাংলা। এছাড়া পৌষ সংক্রান্তি বা পিঠে-পুলির উৎসব বাঙালির একান্তই নিজস্ব।

       সামাজিক ও পারিবারিক উৎসবঃমানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন দৃঢ় করতে সামাজিক উৎসবের ভূমিকা অপরিসীম। ভাইফোঁটা, জামাইষষ্ঠী, রাখীপূর্ণিমা—এই উৎসবগুলো পারিবারিক স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতীক। এছাড়াও গ্রামবাংলার লৌকিক উৎসব যেমন—গাজন, চড়ক এবং নানাবিধ ব্রত (যেমন—লক্ষ্মীপূজা বা ইতু ব্রত) বাঙালির লোকসংস্কৃতির পরিচয় দেয়।

        সাংস্কৃতিক ও জাতীয় উৎসবঃবাঙালির প্রাণের উৎসব হলো পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের দিন। এছাড়া ২৫-শে বৈশাখ (রবীন্দ্রজয়ন্তী), ১৫-ই আগস্ট (স্বাধীনতা দিবস), ২৬-শে জানুয়ারি (সাধারণতন্ত্র দিবস) এবং নেতাজির জন্মদিন পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১-শে ফেব্রুয়ারি) এখন বাঙালির এক আবেগঘন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

       উৎসবের সার্থকতা ও বর্তমান রূপঃউৎসবের প্রকৃত সার্থকতা মানুষের মিলনে। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে উৎসবের ধরনে কিছুটা বদল এলেও তার আন্তরিকতা কমেনি। আধুনিক যুগে বইমেলা, চলচ্চিত্র উৎসব কিংবা পাড়ার ছোট মেলাগুলোও বাঙালির কাছে উৎসবের সমতুল্য। তবে মনে রাখতে হবে, উৎসব যেন কেবল বাহ্যিক আড়ম্বরে পর্যবসিত না হয়; এর ভেতরের সম্প্রীতি ও মৈত্রীর ভাবটুকুই আসল।

          আসলে উৎসব মানেই ভাঙন ভুলে গড়ার শপথ। বাংলার মাটি ও মানুষের পরিচয় লুকিয়ে আছে এই আনন্দোৎসবের মধ্যে। বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়েও বাঙালি তার ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে। উৎসবই বাঙালির প্রাণশক্তি, উৎসবই তার অস্তিত্ব।কবিগুরুকে স্মরণ করে আমারা বলতে পারি-

"প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দীন একাকী, কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ।"

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...