পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান।সার্ক-এর সাফল্য ও ব্যর্থতার কারণগুলো আলোচনা করো।
•সার্ক-এর সাফল্য•
•সার্ক ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশ কিছু গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।যে পদক্ষেপগুলি এইসকল অঞ্চলের সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করে।আর সেখানে ১৯৯৩ সালে SAPTA এবং ২০০৪ সালে SAFTA চুক্তি স্বাক্ষর সার্কের অন্যতম বড় সাফল্য।আর সেই সাফল্যের ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান ও বাণিজ্য শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার ফলে-
•সার্ক কৃষি কেন্দ্রঃ বাংলাদেশে 'সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার' (SAC) সহ বিভিন্ন দেশে আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।যে গবেষণা কেন্দ্র কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
•সামাজিক সনদঃ ২০০৪ সালে ইসলামাবাদ সম্মেলনে সার্কের সামাজিক সনদ গৃহীত হয়।যে সনদের লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিশু কল্যাণ, নারী অধিকার রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি।
•সন্ত্রাসবাদ বিরোধী চুক্তিঃ ১৯৮৭ সালে সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য একটি আঞ্চলিক কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। আবার ২০০৪ সালে তার সাথে অতিরিক্ত একটি প্রোটোকল যুক্ত করা হয়।
•সার্ক সাংস্কৃতিক ও উচ্চশিক্ষাঃ সার্কের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে 'সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র' এবং গবেষণার জন্য দিল্লিতে 'সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি' (SAU) প্রতিষ্ঠিত হয়।
•সার্ক-এর ব্যর্থতার কারণ•
•সার্ক তার লক্ষ্য পূরণে অনেক ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। তার প্রধান কারণগুলো হলো-
•ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বঃ সার্কের স্থবিরতার প্রধান কারণ হলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চিরস্থায়ী শত্রুতা এবং কাশ্মীর সমস্যা। যার ফলে এই দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
•দ্বিপাক্ষিক বিরোধঃ সার্কের সনদে বলা হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক বির্তকিত বিষয়গুলো এখানে আলোচিত হবে না। যার ফলে সমস্যাগুলো অমীমাংসিত থেকে যায় এবং সহযোগিতার পরিবেশে বেশ ব্যাঘাত ঘটায়।
•আস্থার অভাবঃ দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলো অনেক সময় ভারতের বিশাল ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক প্রাধান্যকে সন্দেহের চোখে দেখে। যার ফলে পারস্পরিক আস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
•সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশঃ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং অনুপ্রবেশের সমস্যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তিক্ততা বাড়িয়ে দেয়।বিশেষ করে উরি বা পুলওয়ামা হামলার মতো ঘটনার পর সার্ক সম্মেলন দীর্ঘকাল স্থগিত থাকে।
•অর্থনৈতিক বৈষম্যঃ সার্কের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক কাঠামোর বিপুল পার্থক্য থাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো (যেমন SAFTA) পূর্ণভাবে কার্যকর হতে পারছে না। তবে-
সার্ককে 'অকার্যকর' একটি সংগঠন বলা হলেও, এটি আসলে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি অভিন্ন মঞ্চে মতামত আদান প্রদানের সুযোগ করে দেয়।তবে বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব অনুভব করে সার্কের সনদ সংস্কার একান্ত প্রয়োজন।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏
Comments
Post a Comment