Skip to main content

বাংলা শিশু সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান আলোচনা করো।

বাংলা শিশু সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা অনার্স CBCS)।

      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম এই কবি শিশুদের জন্য যা লিখেছেন, তা নিছক মনোরঞ্জন নয়, বরং তাতে জড়িয়ে আছে আধুনিক মনন এবং আশ্চর্য এক কল্পনাপ্রবণতা।আর সেখানে-

       বুদ্ধদেব বসু মূলত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক শক্তিমান কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর শিশু সাহিত্যেও একটি স্বতন্ত্র ও মূল্যবান অবদান রয়েছে। এই ক্ষেত্রেও তিনি কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রুচিবোধ, কল্পনা ও নৈতিক সংবেদনশীলতা গঠনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন।আর সেখানে আমরা দেখি- 

         বুদ্ধদেব বসু শিশুদের জন্য কলম ধরেছিলেন মূলত এক ধরণের শৈল্পিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাঁর লেখায় চিরাচরিত রূপকথার চেয়ে কল্পবিজ্ঞান এবং অ্যাডভেঞ্চার বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তার প্রধান কারণ-

         তিনি শিশুদের বুদ্ধিকে খাটো করে দেখেননি। তাঁর লেখায় বৈজ্ঞানিক যুক্তি এবং যুক্তিনিষ্ঠ কল্পনা মিশে থাকত। শুধু তাই নয়, তাঁর গদ্য অত্যন্ত ঝরঝরে এবং চিত্রধর্মী, যা শিশুদের মনে সহজেই দৃশ্যপট তৈরি করতে পারে। তবে সেখানে তিনি  তিনি শিশুদের মনে অকারণ ভয় জাগিয়ে তোলার চেয়ে রোমাঞ্চকর অভিযানের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন।

           •বুদ্ধদেব বসুর শিশুসাহিত্যের ভাণ্ডার খুব বিশাল না হলেও গুণগত মানে তা অনন্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হলো-উপন্যাস 'ছায়া কালো কালো', 'পাতাল পথ'।গল্প  'নীল কিন্নর', 'ম্যাকবেথ' যা শিশুদের উপযোগী রূপান্তর হিসেবে পরিগণিত। এছাড়াও কবিতা 'সব-পেয়েছির দেশ'যেটি কিশোরদের জন্য লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা। যেখানে-

          ছায়া কালো কালো উপন্যাসটি বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে ছায়াছবির মতো রহস্যময় এক পরিবেশ এবং কিশোরসুলভ কৌতূহল। এবং পাতাল পথ উপন্যাসটি মূলত একটি কল্পবিজ্ঞানধর্মী রচনা। মাটির নিচের এক অন্য জগত এবং সেখানকার অদ্ভুত প্রাণীদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই কাহিনী কিশোর পাঠকদের কল্পনার জগতকে প্রসারিত করে। এরই পাশাপাশি সমভাবে দেখি- 

        অনুবাদ সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের পরিচয়ে বুদ্ধদেব বসু বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী। আসলে বুদ্ধদেব বসু বিশ্বাস করতেন শিশুদের বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করানো প্রয়োজন। তিনি শেক্সপিয়রের 'ম্যাকবেথ' বা 'টেম্পেস্ট'-এর মতো ধ্রুপদী নাটকগুলোকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল গদ্যে শিশুদের জন্য অনুবাদ বা রূপান্তর করেছেন। এর ফলে বাংলার শিশুরা খুব অল্প বয়সেই বিশ্বসাহিত্যের স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

       পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, বুদ্ধদেব বসুর শিশুসাহিত্যের গুরুত্ব হলো-তিনি শিশুসাহিত্যকে সস্তা রূপকথা বা উপদেশের গণ্ডি থেকে বের করে 'সাহিত্য' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর লেখায় শিশুদের জন্য কোনো উগ্র নীতিশিক্ষা নেই, আছে নির্মল আনন্দ এবং অজানাকে জানার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা। তাই আমরা বলতে পারি-

"বুদ্ধদেব বসুর শিশুসাহিত্য আসলে কিশোর মনের এক মুক্ত জানলা, যেখান দিয়ে আধুনিকতা আর কল্পনা হাত ধরাধরি করে পথ চলে।"

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...