Skip to main content

ছাত্রসমাজ ও তাদের দায়বদ্ধতা।

'ছাত্রসমাজ ও তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা' প্রবন্ধ রচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)।

      ভূমিকাঃ"ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ"-ছাত্রদের প্রধান কাজ পড়াশোনা হলেও তারা সমাজের বাইরে নয়। ছাত্ররাই হলো দেশের ভবিষ্যৎ এবং জাতির মেরুদণ্ড। একটি দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে ছাত্রসমাজের দায়বদ্ধতা অনস্বীকার্য। বর্তমান যুগে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশ সচেতনতা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- "দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর।" আধুনিক সভ্যতার এই সংকটে ছাত্ররাই পারে সমাজ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে।

•সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ছাত্রসমাজ•

      ছাত্রসমাজ প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং সংস্কারমুক্ত। তাই সমাজের যেকোনো কুসংস্কার, অশিক্ষা বা সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াতে পারে। রক্তদান শিবির আয়োজন করা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, কিংবা মহামারির সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো-সবক্ষেত্রেই ছাত্রসমাজের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্যহীন পরিবেশ, যার মোকাবিলায় ছাত্ররাই হলো প্রধান সৈনিক।

   •পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা•

পরিবেশ কেবল আমাদের চারপাশ নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব ধরে রাখে। ছাত্ররা নানাভাবে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে পারে।আর সেখানে-

     •বৃক্ষরোপণ ও অরণ্য রক্ষাঃ "একটি গাছ একটি প্রাণ"-এই মন্ত্রকে সামনে রেখে বিদ্যালয়ের আঙিনায় বা এলাকার ফাঁকা জায়গায় ছাত্ররা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করতে পারে। কেবল গাছ লাগানো নয়, তা বড় না হওয়া পর্যন্ত পরিচর্যা করাও তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

        'সবুজায়নই হোক আগামীর জয়গান' 

    •প্লাস্টিক বর্জনঃ পরিবেশের অন্যতম শত্রু হলো প্লাস্টিক। ছাত্ররা যদি নিজেরা প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করে এবং সাধারণ মানুষকে এর কুফল সম্পর্কে সচেতন করে, তবে সমাজ অনেক উপকৃত হবে।

    •জল ও শক্তি সংরক্ষণঃ বাড়িতে বা বিদ্যালয়ে অকারণে ট্যাপের জল নষ্ট না করা এবং অপ্রয়োজনে আলো-পাখা বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ছাত্ররা সম্পদ সংরক্ষণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

      •সচেতনতা প্রচারঃছাত্ররা হলো সমাজের বার্তাবাহক। পরিবেশ দিবস, অরণ্য সপ্তাহ বা বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে তারা র‍্যালি, পথনাটিকা বা পোস্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারে। দূষণমুক্ত পরিবেশ যে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, এই বার্তা তারা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারে।

     •পড়াশোনা ও সমাজসেবার সমন্বয়ঃঅনেকে মনে করেন সমাজসেবা করলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজসেবা ও পরিবেশ রক্ষার মধ্য দিয়ে ছাত্ররা যে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে, তা তাদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, "বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" এই জীবসেবা আর প্রকৃতিসেবা একই মুদ্রার দুই পিঠ।

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ছাত্ররা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। সমাজের প্রতিটি স্পন্দনের সঙ্গে তারা যুক্ত। একটি সবুজ পৃথিবী এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার যে লড়াই, তার অগ্রভাগে থাকতে হবে ছাত্রসমাজকেই। তাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে পৃথিবীকে আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য করে তুলতে। যে হাত কলম ধরে, সেই হাতই যদি কোদাল ধরে চারাগাছ লাগায়, তবেই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা প্রকাশ পাবে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের "SHESHER KOBITA SUNDARBAN" Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...