পিটার সিঙ্গার-এর প্রজাতিবাদ তত্ত্বের প্রধান দিকগুলো আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস-•পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা•)
প্রজাতিবাদ (Speciesism) কী?
পিটার সিঙ্গারের মতে, যেমন বর্ণবাদ বা লিঙ্গবাদ মানুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে, ঠিক তেমনি 'প্রজাতিবাদ' হলো নিজের প্রজাতির (মানুষ) প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং অন্য প্রজাতির (প্রাণী) স্বার্থকে অবজ্ঞা করার একটি কুসংস্কার।আর সেখানে মূল কথা হলো-
শুধুমাত্র অন্য প্রজাতির সদস্য হওয়ার কারণে কোনো প্রাণীর স্বার্থকে গুরুত্ব না দেওয়াটা নৈতিকভাবে ভুল। আর সেকারণেই পিটার সিঙ্গার বলেন-
•সমান বিবেচনার নীতিঃ
সমান বিবেচনার নীতি অনুসারে সিঙ্গার বলেন যে, নৈতিকতার ভিত্তি হওয়া উচিত 'স্বার্থের সমান বিবেচনা'।মানুষের যেমন কষ্ট না পাওয়ার বা সুখে থাকার স্বার্থ আছে, অন্যান্য ইতর প্রাণীরও ঠিক একই রকম স্বার্থ আছে। তবে-
কোনো প্রাণী কথা বলতে পারে না বা বুদ্ধি কম-এই যুক্তিতে তার কষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয়।
সংবেদনশীলতাঃ নৈতিকতার মানদণ্ড অনুসারে সিঙ্গার মনে করেন, কোনো সত্তার নৈতিক মর্যাদা থাকার একমাত্র শর্ত হলো তার সুখ বা দুঃখ অনুভব করার ক্ষমতা বা সংবেদনশীলতা (Sentience)।একটি পাথরকে লাথি মারলে তার কোনো কষ্ট হয় না, তাই তার প্রতি আমাদের কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা নেই।কিন্তু-
একটি কুকুর বা গরুকে আঘাত করলে সে কষ্ট পায়। তাই তার এই কষ্ট পাওয়ার স্বার্থকে মানুষের কষ্টের মতোই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
• প্রজাতিবাদের প্রয়োগ ও সমালোচনা
পিটার সিঙ্গার তাঁর তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে- মানুষ কীভাবে প্রজাতিবাদী আচরণ করে।আর সেখানে-
খাদ্য হিসেবে প্রাণীর ব্যবহারঃ মানুষ কেবল রসনা তৃপ্তির জন্য প্রাণীদের খামারে আটকে রাখে এবং হত্যা করে, যা সিঙ্গারের মতে অনৈতিক। শুধু তাই নয়- অনেক সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী বা ওষুধের পরীক্ষার জন্য প্রাণীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
•প্রজাতিবাদ তত্ত্বের মূল সিদ্ধান্তঃ পিটার সিঙ্গার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে-মানুষের সুখের চেয়ে প্রাণীর কষ্ট কম গুরুত্বপূর্ণ-এই ধারণাটি অযৌক্তিক। শুধু তাই নয়-আমাদের নৈতিক পরিধি কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আসলে-
প্রাণীদের প্রতি আমাদের আচরণের আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন (যেমন: নিরামিষাশী হওয়া বা প্রাণী পরীক্ষা বন্ধ করা)।
Comments
Post a Comment